ইমরান খান গতকাল বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেছেন, তারা নির্বাচনে যেতে ভয় পাচ্ছে। এ জন্য আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে।

আগের দিন রোববার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব ‘অসাংবিধানিক’ বলে খারিজ করে দেন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। এরপর ইমরান খানের পরামর্শ মেনে পার্লামেন্ট ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে যান বিরোধীরা। এর জেরে সৃষ্ট সংকটের প্রেক্ষাপটে স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) নোটিশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

গতকাল এর ওপর শুনানি হয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে। পরে আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা পর্যন্ত তা মুলতবি করেন সর্বোচ্চ আদালত। যদিও গতকাল শুনানির শুরুতে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, আজই (সোমবার) এ ব্যাপারে ‘যুক্তিসংগত আদেশ’ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে সুপারিশ চেয়ে চিঠি

বিধি অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে তিন দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও বিরোধীদলীয় নেতা শাহবাজ শরিফ একমত হয়ে একজনের নাম সুপারিশ করতে পারবেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি গুলজার আহমেদের নাম প্রস্তাব করেছে ইমরানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। গুলজার আহমেদ ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তবে এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে বিরোধীদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিধি অনুযায়ী, ইমরান ও শাহবাজ যদি তিন দিনের মধ্যে কোনো একজনের ক্ষেত্রে একমত না হতে পারেন, তাহলে উভয়েই দুটি করে নাম তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদীয় কমিটিতে পাঠাবেন।

জাতীয় পরিষদ ও পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের আট সদস্যের সংসদীয় কমিটি গঠন করবেন জাতীয় পরিষদের স্পিকার। সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক সদস্য থাকবেন এ কমিটিতে।

পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় পরিষদের পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে।

তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের আগপর্যন্ত ইমরান খান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাবেন। রোববার মধ্যরাতের পর তাঁকে এ দায়িত্ব দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট সচিবালয়।

ক্ষুব্ধ নওয়াজ শরিফ

অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ইমরান খানের বিরুদ্ধে। ইমরান ও তাঁর সহযোগীদের ষড়যন্ত্রকারী অভিহিত করেন নওয়াজ বলেন, ‘ইমরান সংবিধানকে পদদলিত করেছেন। তিনি গুরুতর রাষ্ট্রদ্রোহ করেছেন।’

পাকিস্তানের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হন তিনি। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে তাঁকে দলীয় প্রধানের পদও ছাড়তে হয়েছে। তিনি এখন লন্ডনপ্রবাসী। তাঁর অনুপস্থিতিতে পাকিস্তান মুসলিম লিগের (নওয়াজ) দলের হাল ধরেছেন ভাই শাহবাজ শরিফ।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন