পাকিস্তানে সুফি গায়ক আমজাদ সাবরিকে গুলি করে হত্যা

.
.

পাকিস্তানের প্রখ্যাত কাওয়ালি গায়ক আমজাদ সাবরিকে গতকাল বুধবার করাচিতে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করেছে বন্দুকধারীরা। হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই জনপ্রিয় সুফি গায়ককে হত্যার দায় স্বীকার করে। এর আগেই পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী কাজ’ বলে অভিহিত করেছিল।
টিটিপির মুখপাত্র কারি সাইফুল্লাহ মেহসুদ এক বিবৃতিতে আমজাদ সাবরির হত্যার দায় স্বীকার করেন। তিনি এতে বলেন, আমজাদ সাবরি ধর্মের অবমাননা করেছেন।
জনপ্রিয় শিল্পী আমজাদ সাবরি করাচির কোরাঙ্গি এলাকায় তাঁর বাড়ি থেকে গাড়িতে করে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের স্টুডিওতে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা অস্ত্রধারীরা তাঁর গাড়িকে ধাক্কা দেয় এবং গাড়ির দুই পাশ থেকে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। সাবরিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় সালেম সাবরি নামে শিল্পীর এক আত্মীয় গুরুতর আহত হন।
২০১৪ সালের মে মাসে টেলিভিশনে প্রচারিত আমজাদ সাবরির একটি গান ও নাচ নিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিল্পী এবং ওই টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে আদালত সমন জারি করেছিলেন।
ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে করাচির জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা মুকাদ্দেস হায়দার বলেন, ‘এটি একটি টার্গেটেড (পরিকল্পিত) হত্যা। এটা সন্ত্রাসী কাজ।’
কাওয়ালি একধরনের ইসলামি ভক্তিমূলক গান। পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় এ গানের ব্যাপক কদর রয়েছে। সুফিবাদের সঙ্গে কাওয়ালির সম্পর্ক নিবিড়। পাকিস্তানে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবান সুফিবাদের চরম বিরোধী হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তানে বিগত কয়েক বছরে সুফি মসজিদ ও মাজারে বেশ কয়েকবার হামলা করেছে তালেবান এবং অন্য কয়েকটি জঙ্গিগোষ্ঠী।
পাকিস্তানের কাওয়ালি সংগীতের খ্যাতিমান গায়ক গোলাম ফরিদ সাবরির ছেলে আমজাদ সাবরি। গোলাম ফরিদ সাবরি ও তাঁর ভাই মকবুল আহমেদ সাবরিই আদি সুফি কাওয়ালি দল ‘সাবরি ব্রাদার্স’ গড়ে তোলেন।
আমজাদ সাবরির হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানের শিল্পী মহলে নেমে আসে শোকের ছায়া। শিল্পীরা ছাড়াও অনেক রাজনীতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দেশের ‘সাংস্কৃতিক দূত’ হিসেবে পরিচিত এ শিল্পীকে হত্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।