ইসলামাবাদে চার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পর বেইজিং ছুটলেন ইসহাক দার, কারণ কী
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ইসলামাবাদে বৈঠকের পর পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার আজ মঙ্গলবার বেইজিং সফরে গেছেন। এর পরই চীন জানিয়েছে, তারা ইরানের বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র আমন্ত্রণে ইসহাক দার আজ সকালে ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর গভীর আলোচনা’র জন্য ইসলামাবাদ থেকে এক দিনের সফরে বেইজিং সফরে যান।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কিছু সময় পরেই চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ইরানের বিষয়ে চীন ও পাকিস্তান তাদের সহযোগিতা ‘জোরদার’ করবে।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে মাও নিং চীন ও পাকিস্তানকে ‘সব সময়ের’ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কৌশলগত যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি করবেন এবং শান্তি বজায় রাখতে নতুন করে প্রচেষ্টা চালাবেন।
ঘটনাপ্রবাহের ওপর নজর রাখছেন এমন একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, বেইজিংয়ের এই আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্ভাব্য সংলাপের কাঠামো ও মূলনীতি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছর এটি ইসহাক দারের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বেইজিং সফর। উভয় নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা করবেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে একটি বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে, যা আঞ্চলিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ‘ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও নিয়মিত আলোচনা’র মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বেইজিং সফর হবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার। সেখানে তিনি গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে টেলিফোনে আালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
ওয়াং ই বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধে শান্তি আলোচনা শুরু করা ‘সহজ কাজ নয়’। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।’
ফোনে আলাপের সময় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রতি চীনের সমর্থন ব্যক্ত করেন ওয়াং ই। এ ছাড়া ১০ মার্চও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেছিলেন ইসহাক দারের সঙ্গে। সে সময় তিনি যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
ইসলামাবাদের ‘সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ’কে স্বাগত তেহরানের
ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোকাদ্দম বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বন্ধুপ্রতিম ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ পাকিস্তানের উদ্যোগ ও সদিচ্ছাকে আমি সাধুবাদ জানাই।’
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘অঞ্চলে শান্তি ও স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সদিচ্ছার ভিত্তিতে পাকিস্তানের এই সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগকে ইরান স্বাগত জানায়।’
গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরকে নিয়ে অনুষ্ঠিত চার দেশীয় বৈঠকের পর ইসহাক দার চীন সফরে গেলেন। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রায় ১০০ মিনিট আলোচনা করেন এবং উত্তেজনা প্রশমন ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
মন্ত্রীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কাঠামোগত আলোচনার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
ওই বৈঠকের পর ইসহাক দার আভাস দিয়েছিলেন, পাকিস্তান শিগগিরই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার আয়োজন করতে পারে। ইসলামাবাদে আলোচনার আয়োজন করতে পাকিস্তান তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
রিয়াদ, আঙ্কারা ও কায়রোর সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান এখন মূল কেন্দ্রে রয়েছে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ না হলেও বার্তা বিনিময়ের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।