সহিংসতায় উসকানির মামলায় ইউটিউবার-সাংবাদিকসহ ৭ জনের ‘ডাবল’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ইউটিউবার-সাংবাদিকসহ সাতজনের কারাদণ্ড নিয়ে ডন-এর করা প্রতিবেদনের একাংশের স্ক্রিনশট। (বাঁ থেকে) আদিল রাজা, সাবির শাকির, মুঈদ পীরজাদা, ওয়াজাহাত সাঈদ খান ও হায়দার রাজা মেহদি।

পাকিস্তানে ২০২৩ সালের ৯ মে’র সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার মামলায় ইউটিউবার আদিল রাজা ও সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান, সাবির শাকির ও শাহীন সেহবাইসহ সাতজনকে ‘ডাবল’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ইসলামাবাদের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি)।

শুক্রবার এটিসির বিচারক তাহির আব্বাস সিপ্রা এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা পলাতক থাকায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই এই বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন টকশো সঞ্চালক হায়দার রাজা মেহদি, বিশ্লেষক মুঈদ পীরজাদা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা আকবর হোসেন।

২০২৩ সালের ৯ মে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় বিক্ষোভকারীরা সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ৯ মে’র ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগ আনা হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া, সহায়তা করা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে।

প্রসিকিউশনের আবেদন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতেই এই বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়েছে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধের চেষ্টা অথবা যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধে সহায়তা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দুটি অভিযোগে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। প্রতিটি অপরাধের জন্য তাদের পাঁচ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে।

পাকিস্তান দণ্ডবিধির (পিপিসি) ১২১-এ ধারার অধীনে অপরাধ সংঘটনের দায়ে তাঁদের আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। এই ধারাটি মূলত ১২১ ধারার আওতাভুক্ত অপরাধ (পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধের চেষ্টা) সংঘটিত করার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এ ছাড়া পিপিসির ১৩১ ধারার (বিদ্রোহে উসকানি দেওয়া বা কোনো সেনাসদস্যকে তাঁর কর্তব্য থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা) অধীনে অপরাধের জন্য তাঁদের আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে।

১৯৯৭ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের তিনটি পৃথক ধারায় তাঁদের পাঁচ বছর করে তিন দফা সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই তিনটি অপরাধের প্রতিটির জন্য তাঁদের দুই লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, কোনো অপরাধের জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাবাসের মেয়াদ আরও ছয় মাস করে বাড়বে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২-বি ধারার (কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে আটককালীন সময় বিবেচনা) সুবিধা পাবেন এবং তাঁদের সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।

২০২৩ সালের জুনে এসব মামলা দায়েরের পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)।

ওই সময় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছিল, ‘গত চার দিনে অন্তত সাতজন সাংবাদিক ও আলোচকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।’ রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর সমালোচকদের ওপর ‘দমনপীড়নের’ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল সংস্থাটি।

বিবৃতিতে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি আরও বলেছিল, ‘আলোচক ও সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে এসব আইনের ব্যবহার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের লঙ্ঘন।’