সাক্ষাৎকারে তারিন বলেন, সম্প্রতি তাঁরা পাকিস্তানের লাহোর থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং তাফতান সীমান্ত দিয়ে ইরানে প্রবেশ করেন। এরপর তাঁরা ইরানের বাম নগরী হয়ে বন্দর আব্বাসে যান এবং ফেরিতে করে শারজাহ পৌঁছান। সেখানে বেশ আতিথেয়তা পান তাঁরা।

তারিন বলেন, ‘শারজাহর বাসিন্দারা আমাদের বিশাল অভ্যর্থনা জানিয়েছে। আমরা এখানে পৌঁছানোর পর এখানকার মানুষ আমাদের ফল, চা এবং স্ন্যাকস খাইয়েছেন। এমনকি তাঁদের অনেকে মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজ করার জন্যও আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’

শুরুতে ২০১৯ সালে মোটরসাইকেলে মক্কা সফরের পরিকল্পনা করেছিল দলটি। তবে বিশ্বজুড়ে বিধিনিষেধের কারণে তখন আর ভ্রমণ সম্ভব হয়নি। ছয় মাস আগে আবারও মক্কা সফরের পরিকল্পনা করা হয়। এরপর যাত্রাপথে যেসব দেশ ভ্রমণ করতে হবে, সেগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা। প্রয়োজনীয় সব ধরনের নথিপত্র সংগ্রহ করেন।

তারিন বলেন, মোটরসাইকেলে করে দিনে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছেন তাঁরা। সূর্যাস্তের আগেই তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

মক্কায় ওমরাহ শেষে ইরান হয়ে পাকিস্তানে ফিরবে দলটি। যাত্রাপথে জর্ডান ও ইরাকেও সফর করবে তারা।

এই মোটরসাইকেল আরোহী দলকে পাকিস্তান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে বেশ কিছু বিপত্তিতে পড়তে হয়েছে। তুষারপাত এবং  ধূলিঝড়ের মতো বৈরী আবহাওয়ার কবলেও পড়তে হয়েছে তাদের। তারিন বলেন, ‘পাকিস্তানের মরুভূমিতে আমরা প্রচণ্ড ধুলাঝড়ের কবলে পড়েছিলাম। এরপর তুষারপাতের কবলেও পড়েছি। সামনে ১০ মিটার দূরত্বের বেশি কিছু দেখা যাচ্ছিল না। ইরানের প্রচণ্ড বাতাস থাকায় মোটরসাইকেল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবশ্য আমরা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে শারজাহতে পৌঁছাতে পেরেছি।’

মোটরসাইকেল আরোহী দলটির বিশ্বাস, এসব তৎপরতা তাঁদের সুস্থ-সবল রাখতে সাহায্য করবে। তারিন বলেন, ‘মোটরসাইকেল চালানোর কাজটি চমৎকার। এ অভিযান যে পরিমাণ রোমাঞ্চকর, তার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না।’

তারিন মনে করেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বিভিন্ন যন্ত্রের মধ্যে আটকে থাকে। তা না করে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তারিন মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন জায়গা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা হয়। তবে মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।