চলতি মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানের ওপর হামলা হয়। আগাম নির্বাচনের দাবিতে সেদিন তিনি দেশটির ওয়াজিরাবাদ শহরে লংমার্চ করছিলেন। হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে।

হামলায় পিটিআইয়ের এক সমর্থক নিহত হন। দলটির কয়েকজন নেতা–কর্মীও আহত হন। এর পরপরই লংমার্চ স্থগিত করা হয়। পরে ইমরান অভিযোগ করেন, হামলায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল ফয়সাল নাসির জড়িত।

তবে নিজের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করেননি ইমরান খান। পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীও ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের বিক্ষোভের সময় রাস্তা অবরোধ নিয়ে ব্যবসায়ীদের করা একটি আপিলের ওপর আজ আদালতে শুনানি চলছিল। এ সময় সেখানে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন পেশ করে পুলিশ। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমরান আবার লংমার্চে অংশ নিলে তাঁর ওপর আরেকটি হামলা হতে পারে।

এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে ইসলামাবাদে সভা–সমাবেশের জন্য পিটিআইকে নতুন করে আবেদন করতে বলেছেন বিচারপতি আমির ফারুক। একই সঙ্গে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে হামলার পর ১০ নভেম্বর আবারও লংমার্চ শুরু হয়েছে। তবে সরাসরি অংশ নিতে পারেননি ইমরান। বর্তমানে তিনি লাহোরে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই সমর্থকদের উদ্দেশে ভার্চ্যুয়ালি ভাষণ দিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই লংমার্চে সশরীর উপস্থিত থাকবেন ইমরান।

গত এপ্রিলে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে এক অনাস্থা ভোটের মধ্য দিয়ে পতন হয় ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের। এরপর থেকেই তিনি আগাম নির্বাচনের দাবিতে দেশজুড়ে সভা–সমাবেশ করছেন। আগামী বছর পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।