যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার আলোচনায় বসানোর চেষ্টায় সৌদি, কাতার ও তুরস্ক সফরে শাহবাজ

শাহবাজ শরিফরয়টার্স ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় বসানোর চেষ্টায় সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে চার দিনের সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমনটা জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আজ বুধবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত শাহবাজের এ সরকারি সফর চলবে। সৌদি আরব ও কাতারে দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে আলোচনা হবে। আর তুরস্কে আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের ফাঁকে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য নেতার সঙ্গে আলোচনা করবেন শাহবাজ।

গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, শাহবাজ শরিফ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করে শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চান বলে প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন।

এ উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও অন্যান্য শক্তিধর পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে শান্তি প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখার জন্য শাহবাজ শরিফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জারদারি।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে ২১ ঘণ্টার সরাসরি আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হওয়া সত্ত্বেও নতুন দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে আশাবাদ থাকছে।

ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে আলোচনা ইউরোপে হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটি ইসলামাবাদে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ‘চমৎকার কাজ করছেন’ বলেও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এক কূটনীতিকের বরাতে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনায় সম্মত হয়েছে। তবে স্থান, সময় এবং প্রতিনিধিদলের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ ও জেনেভার নাম বিবেচনায় রয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনায় আবারও গতি ফিরবে। এর খুবই সম্ভাবনা আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নাজুক পরিস্থিতিতে যেকোনো নতুন আলোচনা হবে বড় পরীক্ষা। কারণ, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ আরোপ করেছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ সীমিত করায় বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়ে গেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এত জটিল সমস্যার সমাধান এক বৈঠকে সম্ভব নয়। ধারাবাহিক আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।