আরব বিশ্বে অস্ত্র বিক্রি করতে তৎপর হয়ে উঠছে পাকিস্তান। সৌদি আরব থেকে শুরু করে ইরাক, সুদান, লিবিয়া পর্যন্ত বেশ কিছু দেশের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে ইসলামাবাদের আলোচনা চলছে। প্রতিরক্ষা সমঝোতা করছে কোনো কোনো দেশের সঙ্গে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদানের সামরিক বাহিনীর কাছে যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র বিক্রি করতে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে পাকিস্তান। অঙ্কের হিসাব করলে এটি খুব বড় চুক্তি নয়। কিন্তু প্রায় তিন বছর ধরে চলা সুদানের গৃহযুদ্ধে এর প্রভাব হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ।
সুদানের কাছে যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র বিক্রির লক্ষ্যে আলোচনাধীন এই চুক্তি সাম্প্রতিক মাসগুলোয় পাকিস্তানের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোর সর্বশেষ উদাহরণ। আরব বিশ্বে পাকিস্তানের তৈরি সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি ও প্রভাব যে ক্রমেই বাড়ছে, এসব পদক্ষেপ সেটি স্পষ্ট করে তুলছে।
গত কয়েক বছরে এশিয়া ও আফ্রিকার একাধিক দেশে যুদ্ধবিমান বিক্রি করেছে পাকিস্তান। দুই অঞ্চলের কিছু দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এত দিন আরব মিত্রদের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়াতে সীমাবদ্ধ থাকলেও দেশগুলোয় পাকিস্তানের সামরিক ভূমিকা বদলাতে শুরু করছে।
পাকিস্তানের এই কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত যৌথ প্রতিরক্ষা সমঝোতা’ নামের একটি চুক্তি। এই চুক্ত করার পর থেকেই সৌদি আরব পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনায় আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ইরাকও এই যুদ্ধবিমান কেনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের কাছ থেকে এই যুদ্ধবিমান কিনেছে মিয়ানমার, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজান।
লিবিয়ার বিদ্রোহীদের কাছেও জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ববিমান বিক্রির পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। গত ডিসেম্বর দেশটির বিদ্রোহী নেতা খলিফা হাফতারের সঙ্গে এ নিয়ে ৪০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার কথা জানা গেছে। বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়াও এ যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছে।
সম্প্রতি করাচিভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কে ট্রেডের করা এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুদ্ধবিমান ছাড়াও আরও বেশ কিছু অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিভিন্ন দেশের কাছে বিক্রি করছে পাকিস্তান। এর মধ্যে রয়েছে ট্যাংক, ড্রোন, সাঁজোয়া যান, নৌবাহিনীর অস্ত্র-প্রযুক্তি ও ছোট ছোট অস্ত্র।
সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাকিস্তানের এসব উদ্যোগ দেশটির প্রতিরক্ষাশিল্পের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। সৌদি আরবের রিয়াদভিত্তিক কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিচার্সের সহযোগী ফেলো উমর করিম বলেন, ‘এসব দেশ হয়তো তাদের চাহিদা অনুযায়ী বড় দেশগুলোর তুলনায় কম অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনবে। কিন্তু চীনের সহযোগিতা থাকায় যুদ্ধবিমানের জন্য পাকিস্তানকে বিশ্বস্ত উৎস বলেই বিবেচনা করবে।’
অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা পাকিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। পাকিস্তানকে সতর্ক করে তাঁরা বলছেন, আরব বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে পাকিস্তানকে অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোতে হবে; অন্যথায় গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে।
সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাকিস্তানের এসব উদ্যোগ দেশটির প্রতিরক্ষাশিল্পের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। সৌদি আরবের রিয়াদভিত্তিক কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিচার্সের সহযোগী ফেলো উমর করিম বলেন, ‘এসব দেশ হয়তো তাদের চাহিদা অনুযায়ী বড় দেশগুলোর তুলনায় কম অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনবে। কিন্তু চীনের সহযোগিতা থাকায় যুদ্ধবিমানের জন্য পাকিস্তানকে বিশ্বস্ত উৎস বলেই বিবেচনা করবে।’
অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা পাকিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। পাকিস্তানকে সতর্ক করে তাঁরা বলছেন, আরব বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে পাকিস্তানকে অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোতে হবে; অন্যথায় গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে।