ইমরান খান চোখের গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন, কী রোগ বলছেন দলের নেতারা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানফাইল ছবি

কারাবন্দী পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চোখের গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন—এমন খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাঁর দল। গতকাল মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান গহর আলী খান এ উদ্বেগ জানান।

গহর আলী খান বলেন, খবরে তিনি ইমরান খানের চোখের সংক্রমণের বিষয়ে জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, যদি খবরটি সত্য হয়, তবে এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এ সময় তিনি কারাবন্দী ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে ‘নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম প্রতিবেদন’ উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইমরান খানের ডান চোখে ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’ (সিআরভিও) ধরা পড়েছে। এ রোগের ফলে চোখের রেটিনার রক্তবাহী শিরায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।

পিটিআইয়ের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে বলা হয়, কারাগারে তাঁকে (ইমরান খান) পরীক্ষা করা চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুতর একটি শারীরিক অবস্থা। দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা না করা হলে তাঁর দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

সাবেক এই ক্ষমতাসীন দলটির দাবি, আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষ কারাগারের ভেতরেই ইমরান খানের চিকিৎসার ব্যাপারে জেদ ধরেছে। অথচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, এ ধরনের চিকিৎসা কারাগারে সম্ভব নয়। এ জন্য অপারেশন থিয়েটারসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা ও সরঞ্জাম প্রয়োজন।

পিটিআই মনে করে, প্রশাসনের এমন একগুঁয়ে মনোভাব ইমরান খানের ‘দৃষ্টিশক্তি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে’ চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।

পিটিআই আরও বলেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে শেষবারের মতো ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন ইমরান খান। এর পর থেকে তাঁকে সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, যা আদালতের আদেশ ও মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে দলটি।

পিটিআই অবিলম্বে ইমরান খানের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে অবাধ সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে শওকত খানম হাসপাতাল অথবা তাঁর পছন্দমতো যেকোনো মানসম্মত হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানিয়েছে।

পিটিআই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তির কোনো স্থায়ী ক্ষতি হলে তার জন্য সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষই দায়ী থাকবে।

২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর আনা অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ইমরান খান। এরপর দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়। কয়েকটি মামলায় ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে দীর্ঘ মেয়াদি কারাদণ্ড হয়। তাঁর দুজনেই বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।