প্রতীকী ছবি

পাকিস্তানে হোয়াটসঅ্যাপে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগের মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। গত শুক্রবার পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরের সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই রায় দেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাজার আদেশ পাওয়া ওই ব্যক্তির নাম সৈয়দ মুহাম্মদ জিশান। পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক অপরাধ দমন আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে ৪ হাজার ৩০০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত আইন বেশ কঠোর। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইনটি আরও শক্ত করা হয়। আইন সংস্কার করে আরও বাড়ানো হয় বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে অবমাননার সাজার পরিসর।

পাকিস্তান সরকারের এমন পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা। তাদের অভিযোগ, আইনটির সংস্কার ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে।

পাকিস্তানে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা ন্যাশনাল কমিশন অব জাস্টিস অ্যান্ড পিস ইন পাকিস্তানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে দেশটিতে ৭৭৪ জন মুসলমান এবং সংখ্যালঘু বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ৭৬০ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস) বলছে, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে পাকিস্তানে অন্তত ১৮ নারী ও ৭১ পুরুষ ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।