কী ঘটেছে

পাকিস্তানের জ্বালানিমন্ত্রী গতকাল সোমবার বলেছেন, জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম ফ্রিকোয়েন্সি পাকিস্তানের সময় গতকাল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বিকল হয়। এরপর দেশটির বিদ্যুৎ–ব্যবস্থায় বড় বিপর্যয় হয়।

মন্ত্রী খুররাম দস্তগীর রয়টার্সকে বলেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ভোল্টেজ অনেক বেড়ে যাওয়ায় পুরো বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের ওপর প্রভাব পড়েছে।

পাকিস্তানের বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণ  

পাকিস্তান আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে এক-তৃতীয়াংশের বেশি বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদা মেটায়। তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার কারণে এই খরচ বেড়ে গেছে।  

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচির অধীন তহবিল পেতে সাম্প্রতিক দেরির কারণে বিদেশ থেকে জ্বালানি কিনতে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে পাকিস্তান। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যা আছে, তাতে মাত্র এক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

পাকিস্তানের সরকার বিদ্যুৎ বাঁচাতে মল, রেস্তোরাঁ, বাজার প্রতিদিন রাত সাড়ে আটটার মধ্যে বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে। স্কুল, হাসপাতাল ও কারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখতে জ্বালানি তেল আমদানি বাড়াতে চেষ্টা করছে।

বিদ্যুতের আসা-যাওয়া

কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বেশি যায়। শীতকালে বিদ্যুতের আসা–যাওয়ার হার কমে। তবে জ্বালানির খরচ বাঁচাতে শীতেও দেশটির অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে না।

গত বছর গরমে পাকিস্তানে তীব্র দাবদাহ ছিল। গ্যাসের ঘাটতি ও বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে পাকিস্তানে প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না।

গ্রিড বিপর্যয়

চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ যখন থাকে না, তখন বৈদ্যুতিক গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দেয়। অনেক সময় বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন বা বদলের কারণেও এমন বিপর্যয় হয়।

এই পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয় তখন, গ্রিড থেকে যখন সব বিদ্যুৎ উৎপাদন স্টেশনগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ফলে ব্ল্যাকআউটের মতো পরিস্থিতি হয়।

পাকিস্তানে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণ আসলে কী, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে চাহিদার তুলনায় জোগান কমে গেলে বিদ্যুৎ গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি কমে যায়।

জ্বালানিমন্ত্রী জিয়ো টিভি চ্যানেলকে বলেছেন, শীতে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় রাতে কিছু বিদ্যুৎ জেনারেটর গ্রিড থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বিদ্যুৎ বাঁচাতেই এমন করা হয়।  

তবে গতকাল সকালে যখন বিদ্যুৎ জেনারেটরগুলো গ্রিডে সংযুক্ত করা হয়, তখন হঠাৎই ভোল্টেজের ওঠানামা হয়। এরপর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যায়।

কী ধরনের বিদ্যুৎ জেনারেটরগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, তা দস্তগীর বলেননি। তবে গ্যাসের ঘাটতির কারণে গ্রিডের সক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে।

গ্যাস-চালিত ও হাইড্রো পাওয়ার কেন্দ্রগুলো ভোল্টেজের ওঠানামা সামাল দিতে পারে। তবে কয়লা, পরমাণু জ্বালানিচালিত কেন্দ্রগুলো তা পারে না।

দস্তগীর রয়টার্সকে বলেছেন, বিদ্যুৎ–সংযোগ ফেরাতে তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। জাতীয় গ্রিডের ১ হাজার ১১২টি স্টেশন সচল করা হয়েছে। তবে আরও দুদিন বিদ্যুতের সংকটে ভুগতে হবে পাকিস্তানবাসীকে।