গভর্নরের শাসনের বিরুদ্ধে আদালতে ইমরানের দল

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানছবি: ইমরান খানের ইনস্টাগ্রাম থেকে

পাকিস্তানে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির পদক্ষেপ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হবে বলে আজ মঙ্গলবার জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান গহর আলী খান। তিনি বলেন, ‘গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করছি।’ সেই সঙ্গে তাঁর দল সাংবিধানিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

পিটিআই নেতা গহর বলেন, তাঁর দল একটি অবাধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও স্বাধীন বিচার বিভাগের সমর্থক।

একটি গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাত করে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করাকে অবৈধ বলে আখ্যা দেন পিটিআই প্রধান। দলটির সাধারণ সম্পাদক সালমান আকবর রাজা বলেন, ‘আন্দোলন করা— এটা আমাদের অধিকার।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পেশোয়ারে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা-কর্মীদের লংমার্চ
ফাইল ছবি: এএফপি

পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পিটিআই এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে গত রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকার সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেয়। এর ফলে সেখানে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের সব কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে।

সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে চলমান এ দ্বন্দ্বে সমঝোতার চেষ্টা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-পাকিস্তানের (জেইউআই-এফ) নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান। উভয় পক্ষই সম্ভাব্য সংঘাতের পথ এড়াতে তাঁর দ্বারস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে পিটিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সালমান আরও বলেন, ‘মাওলানা ফজলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী সব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এগিয়ে নেবেন। কিন্তু এরপর সরকার আলোচ্যসূচি বদলে ফেলে।’

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নরের শাসন জারির পর গত সোমবার সড়ক অবরোধের কারণে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। গতকাল মঙ্গলবার পেশোয়ারের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়। তবে পেশোয়ারে সাত দিনের জন্য সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন