সুইস ক্রেডিটে সাবেক আইএসআইপ্রধানের গোপন সম্পদের তথ্য

সুইজারল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় সুইস ক্রেডিট ব্যাংকে প্রভাবশালীদের গোপন সম্পদ আগলে রাখার তথ্য ফাঁস হয়েছে
ফাইল ছবি: রয়টার্স

সুইজারল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় একটি ব্যাংকে প্রভাবশালীদের গোপন সম্পদ রাখার তথ্য ফাঁস হয়েছে। সেখানে পাকিস্তানের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) সাবেক প্রধান আখতার আবদুর রহমান খানের নাম এসেছে। খবর ডনের।

আখতার আবদুর রহমান খান পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ফাঁস হওয়া নথিপত্র বলছে, আফগানিস্তানে তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে লড়াইরত মুজাহিদিনদের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর।

সুইজারল্যান্ডের বিনিয়োগ ব্যাংক ক্রেডিট সুইসের তথ্য ফাঁসের এ ঘটনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুইস সিক্রেটস’। একজন ‘হুইসেলব্লোয়ার’ জার্মানির একটি পত্রিকার কাছে ব্যাংকটির ১৮ হাজারের বেশি হিসাবের তথ্য তুলে দেন। এরপর ওই পত্রিকা অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টসহ (ওসিসিআরপি) বিশ্বের ৪৬টি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এসব তথ্য নিয়ে কাজ করে।

সুইস সিক্রেটস বলছে, তথ্য ফাঁস হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দুর্নীতিবাজ, অর্থ পাচারকারী, মাদক কারবারি, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরাও। তথ্যের মেয়াদ ১৯৪০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত। তালিকায় নাম আসা ব্যক্তিদের অন্তত ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার রাখা হয় সুইস ক্রেডিটে। এর মধ্যে রয়েছে আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান আখতার আবদুর রহমান পরিবারের অর্থ।

সুইস সিক্রেটস নিয়ে কাজ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগান মুজাহিদিনদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের নানা দেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা আনতে কাজ করেছিলেন আবদুর রহমান খান। ১৯৮৫ সালে ক্রেডিট সুইসে তাঁর তিন ছেলের নামে একটি হিসাব খোলা হয়। ২০০৩ সাল পর্যন্ত ওই হিসাবে জমা করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ লাখ ডলার।

ওসিসিআরপির একটি প্রতিবেদনে আরও সুনির্দিষ্টভাবে এ নিয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে ওসিসিআরপি দাবি করেছে, মুজাহিদিনদের জন্য সহায়তার অর্থ সুইস ব্যাংকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হিসাবে জমা হতো। মুজাহিদিনদের কাছে পৌঁছে দিতে ওই অর্থ চূড়ান্ত পর্যায়ে আইএসআইয়ের হাতে যেত। সে সময় গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রধান ছিলেন আবদুর রহমান খান।

গত শতকের আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সিআইএর কাছ থেকে অর্থ নিয়ে মুজাহিদিনদের কাছে পৌঁছে দিতেন আবদুর রহমান। ঠিক ওই সময় ১৯৮৫ সালে ক্রেডিট সুইসে তাঁর তিন সন্তানের নামে হিসাব খোলা হয় বলে জানিয়েছে ওসিসিআরপি। মুজাহিদিন যোদ্ধাদের সহায়তার অর্থ আদতে কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে একই বছরে তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে ১৯৮৬ সালের জানুয়ারিতেও আবদুর রহমানের পরিবারের নামে আরেকটি হিসাব খোলা হয় বলে জানিয়েছে ওসিসিআরপি। ওই হিসাবে ২০১০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৯২ লাখ ডলার জমা ছিল।

সুইস সিক্রেটই প্রথম নয়। এর আগেও গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পানামা পেপারস, প্যারাডাইস পেপারস ও প্যান্ডোরা পেপারস রয়েছে। এসব ঘটনায় বিশ্বের অনেক ক্ষমতাবান ও বিখ্যাত মানুষের কর ফাঁকি দেওয়ার তথ্য উঠে আসে।