ফিরে দেখা
নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে লুইস ব্রাউন কেন এত বড় অনুপ্রেরণা হয়ে রইলেন
আজ থেকে ঠিক ৪৮ বছর আগে ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই জন্ম হয়েছিল বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্রাউনের। কেমন আছেন বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কারের মানুষটি। তাঁকে নিয়েই এ আয়োজন।
বিয়ের পর ১০ বছর পেরিয়েছে। কোলজুড়ে সন্তান আসেনি লেসলি ও জন ব্রাউন দম্পতির। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কমতি ছিল না। এরই মধ্যে চিকিৎসকদের একটি কথায় তাঁদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। লেসলি নাকি স্বাভাবিকভাবে কখনোই মা হতে পারবেন না। এরপর কত চিকিৎসকের কাছে ছোটাছুটি, কত চেষ্টা–তদবির। কিন্তু রাতের আঁধার পেরিয়ে ভোরের আলো যেন ফুটছিল না।
এই দম্পতির বাড়ি ছিল যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরে। তাঁদের এ ঘটনা প্রায় ৫০ বছর আগের। শেষ পর্যন্ত লেসলি মা হয়েছিলেন, ঘর আলো করে এসেছিল ফুটফুটে এক মেয়েশিশু—নাম লুইস ব্রাউন। কীভাবে লুইসের জন্ম হলো? সে এক আশ্চর্য ঘটনা। এর পেছনে অবদান পুরোপুরি বিজ্ঞানের। তবে এ নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। অনেকে তো লুইসকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের শিশু’ নাম দিয়েছিলেন।
লুইসের জন্ম সেদিন এতই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল যে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের তাঁবু পড়ে গিয়েছিল। লুইসের জন্মের রাতেই স্টেপটো তাঁর নাম রেখেছিলেন ‘জয়’। ইংরেজি শব্দটির বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘আনন্দ’।
আসলে যে পদ্ধতিতে লুইসের জন্ম হয়েছিল, তা তখন মানুষের কাছে ছিল একেবারেই অজানা। পদ্ধতিটি হলো ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ বা ‘আইভিএফ’। এতে মানবভ্রূণ সৃষ্টি করা হয় মাতৃগর্ভের বাইরে। তারপর সেই ভ্রূণ গর্ভের ভেতরে প্রতিস্থাপন করা হয়। সেখানে ভ্রূণটি পরিণত আকার পেয়ে স্বাভাবিকভাবে জন্ম হয় শিশুর। এ পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশুকে ‘টেস্টটিউব বেবি’–ও বলা হয়।
আজ থেকে ঠিক ৪৮ বছর আগে ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই জন্ম হয়েছিল বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্রাউনের। সেই সময়ে এই অসাধ্য সাধন কীভাবে হয়েছিল, কারা এই দুরূহ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, বর্তমান সময়ে আইভিএফ পদ্ধতি সন্তানহীন দম্পতিদের কতটা কাজে আসছে, আর ৪৮ বছর বয়সে এসে সেই লুইস এখন কেমন আছেন—চলুন জেনে নেওয়া যাক একে একে।
দিন বদলের শুরু
মানুষের শরীরের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু নিষিক্ত করার চেষ্টা বহু আগে থেকেই করছিলেন বিজ্ঞানীরা। তবে এভাবে যে ভ্রূণ তৈরি করা সম্ভব, তা খুব কম মানুষই বিশ্বাস করতেন। তাঁদের মধ্যে দুজন হলেন ব্রিটিশ ফিজিওলজিস্ট রবার্ট এডওয়ার্ডস ও গাইনোকোলজিস্ট প্যাট্রিক স্টেপটো। আইভিএফ নিয়ে গত শতকের ষাটের দশক থেকে কাজ করছিলেন তাঁরা। তবে সফলতা ছিল অধরা।
এডওয়ার্ডস একা ১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো নারীর শরীরের বাইরে ডিম্বাণু নিষিক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে বিষয়টি আর সামনে এগোয়নি। পরে স্টোপটোর সঙ্গে মিলে তিনি এক দশক ধরে ২৮২ জন নারীর শরীরে ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন। পাশে ছিলেন বিশ্বের প্রথম ভ্রূণবিদ জেন পারডি। ওই ২৮২ জনের মধ্যে ৫ জন গর্ভবতী হলেও কেউই জীবিত শিশুর জন্ম দিতে পারেননি।
এ গবেষণা অনেক গোপনে করতে হয়েছিল তিনজনকে। বাধা এসেছিল ধর্মীয় বিভিন্ন গোষ্ঠী থেকে। একে ‘সৃষ্টিকর্তার ওপর হস্তক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন অনেকে। এমনকি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত উপন্যাস ‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’–এর সঙ্গে আইভিএফকে তুলনা করেছিলেন সাধারণ অনেক মানুষ। ওই উপন্যাসে মানুষের স্বাভাবিক প্রজনন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মানুষ তৈরি করা হচ্ছিল পরীক্ষাগারে।
প্রথম দিকে এডওয়ার্ডস ও স্টেপটো মূলত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো করতেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেখানে গবেষণা করার সুযোগ হারান তাঁরা। গতি হয় ওল্ডহ্যাম জেনারেল হাসপাতালের একটি ছোট ল্যাবে। হাসপাতালটি মূল শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় সমালোচকদের চোখ এড়ানো সম্ভব ছিল। এখানেই লুইস ব্রাউনের ভ্রূণ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
আইভিএফ করতে চাওয়া নারীদের ক্লিনিকের কেবিনে দুই-তিন সপ্তাহ থাকতে হতো। পুরো সময়টাতে তাঁদের নিজেদের মূত্র জমিয়ে রাখতে হতো। তিন-চার ঘণ্টা পরপর তা সংগ্রহ করতে আসতেন ক্লিনিকের কর্মীরা।
পৃথিবীতে লুইস
এডওয়ার্ডস ও স্টেপটোর খোঁজ লেসলি ও জন ব্রাউনকে দিয়েছিলেন ব্রিস্টলের একজন চিকিৎসক। এরপর এই দম্পতি ওল্ডহ্যামে গিয়ে দুজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে লেসলির ডিম্বাণু ও ব্রাউনের শুক্রাণু একটি পাত্রে নিষিক্ত করা হয়। যদিও পাত্রটি টেস্টটিউব নয়; বরং ছিল একটি পেট্রিডিশ। ল্যাবটেরিতে এ ধরনের পাত্র ব্যবহার করা হয়। লন্ডনের সায়েন্স মিউজিয়ামে এখনো ওই পাত্র রাখা আছে।
পেট্রিডিশে ভ্রূণ সৃষ্টি হলে তা লেসলির গর্ভে স্থাপন করা হয়। এরপর শঙ্কা, আদৌ কি সফল হবে এডওয়ার্ডস ও স্টেপটোর চেষ্টা। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৭ সালের বড়দিনের আগে লেসলি একটি চিঠি পান এডওয়ার্ডসের কাছ থেকে। তিনি লেখেন, ‘আপনার রক্ত ও মূত্র পরীক্ষার ফলে ইঙ্গিত পাচ্ছি, আপনি সম্ভবত প্রাথমিক গর্ভাবস্থায় আছেন।’ লেসলি আমৃত্যু সেই চিঠিটি আগলে রেখেছিলেন।
লেসলির গর্ভধারণের খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গবেষকেরা অনাগত শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় পড়েন। স্টেপটো তখন লেসলিকে নিজ গাড়িতে করে নিয়ে যান এবং লুকিয়ে রাখেন। ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই, ওল্ডহ্যাম জেনারেল হাসপাতালে ঠিক রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হয় লুইস ব্রাউনের। এর আগপর্যন্ত সাংবাদিকেরা লেসলির খবর জানতে পারেননি।
সিজারিয়ান অপারেশনের পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে রেখেছিলেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা চাচ্ছিলেন, আইভিএফ নিয়ে এডওয়ার্ডস ও স্টেপটোর দাবি যে মিথ্যা নয়, তা প্রমাণ করা। লুইসের জন্ম সেদিন এতই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল যে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের তাঁবু পড়ে গিয়েছিল। লুইসের জন্মের রাতেই স্টেপটো তাঁর নাম রেখেছিলেন ‘জয়’। ইংরেজি শব্দটির বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘আনন্দ’।
কঠিন এক যাত্রা
আইভিএফে সফলতা পেতে এডওয়ার্ডস ও স্টেপটোর যেমন দীর্ঘ সময় লেগেছিল, তেমনই এ পদ্ধতিতে সন্তান জন্মদানে একজন নারীকেও সে সময় কম কষ্ট করতে হতো না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের কাছে সে কথা বলেছিলেন ভিভিয়ান কলিন্স। লুইসের জন্মের পর কেমব্রিজের কাছে বোর্ন এলাকায় একটি ক্লিনিক খুলেছিলেন এডওয়ার্ডস ও স্টেপটো। ওই ক্লিনিকে কাজ করতেন কলিন্স।
কলিন্সের কথায়, আইভিএফ করতে চাওয়া নারীদের ক্লিনিকের কেবিনে দুই–তিন সপ্তাহ থাকতে হতো। পুরো সময়টাতে তাঁদের নিজেদের মূত্র জমিয়ে রাখতে হতো। তিন–চার ঘণ্টা পরপর তা সংগ্রহ করতে আসতেন ক্লিনিকের কর্মীরা। কারণ, সে সময় শরীরের হরমোনের মাত্রা পর্যবেক্ষণের একমাত্র উপায় ছিল মূত্র পরীক্ষা। এই হরমোন থেকে বোঝা যেত, কোনো নারীর ডিম্বাণু নিঃসরণ হয়েছে কি না।
আশির দশকে এডওয়ার্ডস ও স্টেপটোর কাছে আটবার চিকিৎসা নিয়ে আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন লুসি ড্যানিয়েল রুবি। তাঁর ভাষ্যমতে, একেকটি কেবিনে তাঁরা ছয়জন করে থাকতেন। মূত্র সংগ্রহের জন্য মাঝরাতে এসেও তাঁদের ঘুম ভাঙানো হতো। তবে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকতে গিয়ে কেবিনের সবার মধ্যে আন্তরিকতার সম্পর্ক গড়ে উঠত। এতে ধকল অনেকটা কমত।
হরমোন পরীক্ষার মাধ্যমে নারীর শরীরে ডিম্বাণু নিঃসরণের সংকেত পাওয়া গেলে শুরু হতো নতুন যাত্রা। এর ঠিক ২৬ ঘণ্টার পর ডিম্বাণু সংগ্রহ করতে হতো। ফলে কোনো কোনো সময় গভীর রাতেও ডিম্বাণু সংগ্রহের অস্ত্রপচার করতে হতো। এ ছাড়া গর্ভে ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পর নারীদের এক বা দুই ঘণ্টা সামনের দিকে ঝুঁকে উপুড় হয়ে বসে থাকতে হতো, যেন জরায়ুতে ভ্রূণটি আটকে না যায়।
আজকের দিনে আইভিএফ বেশ সহজ একটি প্রক্রিয়া। নারীদের এখন আর দুই–তিন সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হয় না। চিকিৎসা নিয়ে দিনে দিনেই তাঁরা বাড়িতে ফিরতে পারেন। ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা উপুড় হয়ে বসে থাকতেও হয় না। আর একসময় আইভিএফের একটি ঝুঁকি ছিল যমজ সন্তানের জন্ম। বর্তমানে সেই ঝুঁকিও অনেক কমে এসেছে।
লুইস বর্তমানে স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে সাধারণ জীবন যাপন করছেন। তিনি বোর্ন হল আইভিএফ ক্লিনিকের অ্যাম্বাসেডর।
কতটা এগিয়েছে আইভিএফ
আইভিএফে লুইসের জন্মের পর ৪৮ বছর পেরিয়েছে। এত বছর পরে এসে আইভিএফকে কতটা গ্রহণ করেছেন মানুষ? গত বছরের জুলাইয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছিল ফার্টিলিটি অ্যান্ড স্টেরিলিটি নামের একটি সাময়িকী। ওই গবেষণা অনুযায়ী, লুইসের জন্মসাল ১৯৭৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আইভিএফের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা আনুমানিক ১ কোটি থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ।
ওই গবেষণাপত্রে প্রধান লেখক ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের অধ্যাপক জর্জিনা চেম্বার্স। তাঁর হিসাবে, ২০১৮ সালের পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আইভিএফ পদ্ধতিতে আরও ৩০ থেকে ৪০ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। ফলে ২০২৪ সাল নাগাদ ওই হারে হিসাব করলে আইভিএফে জন্ম নেওয়া মোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ।
এখন যে দেশে লুইসের জন্ম হয়েছিল, সেই যুক্তরাজ্যের চিত্রটা কী, তা দেখে নেওয়া যাক। দেশটির সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সেখানে আইভিএফ পদ্ধতিতে প্রায় ২০ হাজার ৭০০ শিশুর জন্ম হয়েছে। এই সংখ্যা সে বছর দেশটিতে জন্ম নেওয়া মোট শিশুর ৩ শতাংশের বেশি। ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যে আইভিএফের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭০০টি।
বাংলাদেশে ২০০১ সালে একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রথম আইভিএফ পদ্ধতিতে শিশুর জন্ম হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রথম আইভিএফ পদ্ধতিতে শিশুর জন্ম হয় ২০২৩ সালে। তবে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কত শিশু আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্ম নিয়েছে, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই।
আজ কে কোথায়
যে তিনজনের হাত ধরে আইভিএফ পদ্ধতিতে সফলতা এসেছিল—তাঁদের কেউই আজ বেঁচে নেই। ১৯৭৮ সালে লুইস ব্রাউনের জন্মের কয়েক বছর পর ১৯৮৫ সালে মৃত্যু হয় জিন পারডির। এর তিন বছর পর ১৯৮৮ সালে প্যাট্রিক স্টেপটোও মারা যান। রবার্ট এডওয়ার্ডস ২০১৩ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তবে কাজের স্বীকৃতি তিনি পান ২০১০ সালে। সে বছর তাঁকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল দেওয়া হয়।
লুইস বর্তমানে স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে সাধারণ জীবন যাপন করছেন। তিনি বোর্ন হল আইভিএফ ক্লিনিকের অ্যাম্বাসেডর। লুইসের জন্মের পর স্টেপটো, এডওয়ার্ডস ও জিন পারডি এই ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ ছাড়া বিশ্বে সবার জন্য প্রজনন-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফার্টিলিটি সোসাইটিজের হয়েও কাজ করেন লুইস।
লুইসের একটি আত্মজীবনী রয়েছে, শিরোনাম—‘লুইস ব্রাউন: বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব শিশু হিসেবে আমার জীবন’। ওই জীবনীর ওপর ২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সে ‘জয়’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি পায়। তাতে এডওয়ার্ডের চরিত্রে অভিনয় করেন জেমস নর্টন। সিনেমায় তাঁর একটি জনপ্রিয় সংলাপ রয়েছে—‘আমি একজন বিজ্ঞানী। প্রতিদিন ব্যর্থ হই এই আশায় যে ২০ বছরে অন্তত একবার সফল হব।’
এই সংলাপ স্বপ্ন দেখতে শেখায়। আইভিএফের দ্বারস্থ হতে চাওয়া দম্পতিদেরও আশার বার্তা শুনিয়েছেন লুইস। এ বছরই সংবাদমাধ্যম মুন্দোআমেরিকার সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেছিলেন, ‘সাহস নিয়ে এগিয়ে যান। আইভিএফের ছোঁয়ায় পৃথিবীর আলো দেখেছে দেড় কোটির বেশি মানুষ। তাই আশা হারাবেন না। আপনার চিকিৎসকের ওপর বিশ্বাস রাখুন। যে পথ একদিন মা–বাবার কোলে আমাকে এনে দিয়েছিল, সেই পথই হয়তো আরও অগণিত পরিবারের জীবনে নতুন প্রাণের বার্তা বয়ে আনবে।’
তথ্যসূত্র:
টাইম ম্যাগাজিন: ‘লুসি ব্রাউন অ্যাট ফোরটি: গ্রোইং আপ অ্যাস দ্য ফার্স্ট টেস্টটিউব বেবি’
দ্য গার্ডিয়ান: ‘দ্য অ্যামেজিং স্টোরি অব আইভিএফ: থার্টিফাইভ ইয়ারস অ্যান্ড ফাইভ মিলিয়ন বেবিস লেটার’
প্রথম আলো: ‘বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্রাউন আজও কেন প্রাসঙ্গিক’
দ্য ডেইলি স্টার: ‘ফার্স্ট টেস্টটিউব বেবি ডুইং ওয়েল অ্যাট ডিএমসিএইচ’
ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েসলের ওয়েবসাইট: ‘টোটাল আইভিএফ বার্থস সোর টু মোর দ্যান থার্টিন মিলিয়ন’
লুসি ব্রাউনের ওয়েবসাইট