মহাকাশ থেকে রহস্যময় ধাতব বল এসে পড়ল সমুদ্রসৈকতে
অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি সৈকতে রহস্যময় কিছু ধাতব গোলক ভেসে এসেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এসব বস্তু আসলে মহাকাশ থেকে ছিটকে আসা ধাতব বল। অবশ্য জনপ্রিয় কমেডি চলচ্চিত্র নির্মাতা মেল ব্রুকসের ক্ল্যাসিক কমেডি চলচ্চিত্র স্পেসবলসের সঙ্গে এসব গোলকের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের শান্ত উপকূলীয় শহর ফরেস্ট বিচে এ ধরনের কয়েকটি ধাতব গোলক খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
পরে সংস্থাটি বলেছে, অজ্ঞাত বস্তুগুলো আসলে মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসা একটি রকেটের অংশ এগুলো।
সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘উদ্ধার করা বস্তুগুলো দেখে মনে হচ্ছে, এগুলো একটি মহাকাশ উৎক্ষেপণ যানের প্রেশার ভেসেল।’
কুইন্সল্যান্ড ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ–সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছে। সেখানে তারা লিখেছে, অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যেন বস্তুগুলো পরীক্ষা করে উদ্ধার করতে পারে, সে জন্য তাদের কর্মীরা সৈকতের একটি অংশ ঘিরে রেখেছিলেন। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, বস্তুগুলো জনসাধারণের জন্য নিরাপদ।
অস্বাভাবিক মনে হলেও মহাকাশযান থেকে ধ্বংসাবশেষ ছিটকে পৃথিবীতে পড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়।
অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, মহাকাশে অভিযান শেষে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় পুরোপুরি পুড়ে না যাওয়া বিভিন্ন মহাকাশযান বা উপগ্রহের অংশ পৃথিবীতে পড়ে যেতে পারে।
স্পেস এজেন্সির তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার তৃতীয় ঘটনা এটি। এর আগে ২০২৩ সালে পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে একটি ধাতব বস্তু ভেসে এসেছিল।
অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি (এএসএ) বলেছে, মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসা বেশির ভাগ বস্তুর অবতরণের স্থান আগেই নির্ধারণ করা থাকে। সাধারণত সেগুলো জনবিরল এলাকা বা সমুদ্রে ফেলা হয়। তবে কিছু বস্তু নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেও টিকে যায়। ফলে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ কোথায় পড়বে, তা আগে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ পড়লে তা মোকাবিলার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি বলেছে, বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের পর টিকে থাকা ধ্বংসাবশেষ সাধারণত নির্ধারিত জনবিরল এলাকাতেই পড়ে। তবে অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ডে পড়া এসব বস্তু প্রথমে সাধারণ মানুষের চোখে পড়েছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, ধ্বংসাবশেষগুলো কোন দেশের এবং কোন উৎক্ষেপণ যান থেকে এসেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ চলছে। একই সঙ্গে মানুষকে ভবিষ্যতে এ ধরনের রহস্যময় ধাতব গোলক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে তারা।
এক্সে দেওয়া পোস্টে সংস্থাটি সতর্ক করে লিখেছে, ‘কোনো বস্তুকে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বলে সন্দেহ হলে তা স্পর্শ করবেন না, সরাবেন না বা নিজে উদ্ধার করার চেষ্টা করবেন না। কর্তৃপক্ষ কোনো ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এগুলো বিপজ্জনক মনে করুন। সেখান থেকে দূরে সরে যান এবং জরুরি সেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’