দুর্ঘটনার সময় বাঁধ ভেঙে স্রোতের মতো আসা কাদাজলে খনি এলাকার ক্যাফেটেরিয়া পুরো চাপা পড়ে যায়
দুর্ঘটনার সময় বাঁধ ভেঙে স্রোতের মতো আসা কাদাজলে খনি এলাকার ক্যাফেটেরিয়া পুরো চাপা পড়ে যায়রয়টার্স ফাইল ছবি।

ব্রাজিলে লোহার আকরিক আহরণের খনির বাঁধ ধসে ২৭০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ৭০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে খনিপ্রতিষ্ঠান ভ্যাল। দুই বছর আগে ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বে মিনাস জেরাইস রাজ্যে ব্রুমাদিনহো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার সময় বাঁধ ভেঙে স্রোতের মতো আসা কাদাজলে খনি এলাকার ক্যাফেটেরিয়া পুরো চাপা পড়ে যায়। ওই সময় সেখানে খনির শ্রমিকেরা দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। বাঁধ এলাকার ভেতর, আশপাশের খামার ও বাড়িঘরে বিভিন্ন খনির শ্রমিকেরা বসবাস করতেন। তাঁদের বাড়িঘর ও যানবাহন ধ্বংস হয়ে যায়।

ভ্যাল আমাদের জীবন কেড়ে নিয়েছে। তারা জানত যে বাঁধটি ভেঙে যাবে। কিন্তু তারা কর্মীদের কথা না ভেবে অর্থ বাঁচানোর কথা ভেবেছিল।
গন আলভেস

মিনাস জেরাইসের রাজ্য সরকার বলছে, ভ্যাল প্রাথমিকভাবে এই ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। প্রয়োজন পড়লে তাদের আরও বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী ওই এলাকার সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ভ্যালকে মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ওই বাঁধ ধসের ঘটনায় ভ্যালের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে।

বিজ্ঞাপন

ভ্যাল বলছে, তারা সামাজিক-অর্থনৈতিক ও সামাজিক-পরিবেশ রক্ষায় ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। পারোপেবা নদীতীরবর্তী এলাকার পরিবেশ রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে তহবিল দেবে।

বাঁধটি মধ্যাহ্নভোজের সময় ধসে পড়েছিল। ভ্যালে বাঁধ ধসের ব্যাপারে কোনো সতর্কতার সংকেত দেয়নি। ওই সময় বেশির ভাগ শ্রমিক ক্যাফেটেরিয়ায় মধ্যাহ্নভোজ করছিলেন। যাঁরা পালাতে পেরেছিলেন, তাঁরাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
ওই এলাকার বাসিন্দা গন আলভেস বলেন, ‘ভ্যাল আমাদের জীবন কেড়ে নিয়েছে। তারা জানত যে বাঁধটি ভেঙে যাবে। কিন্তু তারা কর্মীদের কথা না ভেবে অর্থ বাঁচানোর কথা ভেবেছিল।’

২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ভ্যালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সামারকোতেও একটি বাঁধ ধসে যায়। মিনাস জেইরেস থেকে মাত্র ১২০ কিলোমিটার দূরে মারিয়ানা শহরে ওই বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটে। এতে ১৯ জন নিহত হন।

দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন