ট্রাম্প নাকি রদ্রিগেজ, ভেনেজুয়েলা আসলে কে চালাচ্ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজফাইল ছবি: রয়টার্স

নিরাপদে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা করবে’ যুক্তরাষ্ট্র—গত শনিবার ফ্লোরিডায় এক  সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেন। তবে বেশির ভাগ মার্কিন এমনটা চান না।

রয়টার্স/ইপসোস প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, সস্ত্রীক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে নিউইয়র্কে ধরে নিয়ে আসার পর এখন দেশটি কে চালাবে, এমন প্রশ্নে ৪৩ শতাংশ মার্কিন বলেছেন, তাঁরা চান না কারাকাসে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলাকে শাসন করুক। এ ক্ষেত্রে ৩৪ শতাংশ সমর্থন করেন; ২০ শতাংশ নিশ্চিত নন।

একই জরিপে ৩৩ শতাংশ মার্কিন নিকোলা মাদুরোকে ধরে নিয়ে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ বিপক্ষে মত দেন। আর ৩২ শতাংশ নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেননি।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কের আদালতে নিয়ে যাচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ম্যানহাটান, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

জরিপের ফলাফল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সৈন্য মোতায়েনের পক্ষে নন। ৪৭ শতাংশ মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিরোধী এবং ৩০ শতাংশ সমর্থন করেন।

এ বিষয়ে বিবিসির দক্ষিণ আমেরিকা সংবাদদাতা আইওন ওয়েলস লিখেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন ভেনেজুয়েলা তাঁর দেশের ‘নিয়ন্ত্রণে’ আছে। তবে বাস্তবে ভেনেজুয়েলা সরকার এখনো দেশটিতে কার্যকরভাবে ক্ষমতায় রয়েছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেলসি রদ্রিগেজ।

রদ্রিগেজ প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সাল থেকে তিনি দেশটিতে মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। মাদুরোর অনেক মন্ত্রী এখনো নিজ নিজ পদে বহাল আছেন। প্রভাবশালী সেনাবাহিনীও এখন পর্যন্ত রদ্রিগেজের প্রতি অনুগত রয়েছে বলেও লিখেছেন ওয়েলস।

আরও পড়ুন

তবে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজকেও গুরুতর হুমকি দিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি তিনি ‘সঠিক কাজ’ না করেন (অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র যা চায়, তা না মানেন) তাহলে মাদুরোর মতো পরিণতি ভোগ করতে কিংবা তার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে।

বিশ্লেষকদের অনেকে ধারণা করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরোধী পক্ষকে ক্ষমতায় আনতে সমর্থন দেবেন। তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো লক্ষণ দেখাননি ট্রাম্প; বরং বেশ কিছু পদক্ষেপ দেখে মনে হয়েছে, কিছু দিক থেকে বর্তমান ব্যবস্থা ট্রাম্পের জন্য বেশি সুবিধাজনক বলে মনে করা হচ্ছে।

বিবিসির এই সংবাদদাতার মতে, ভেনেজুয়েলার সরকার এখন নিঃসন্দেহে উদ্বিগ্ন—কারণ, তাঁরা ভালোভাবে জানেন, ট্রাম্পের চাওয়ার অন্তত কিছুটা না মানলে, তাঁদের ওপর কী পরিণতি নেমে আসতে পারে। তাই বলা যায়, ট্রাম্প সরাসরি দেশটির ক্ষমতায় নেই বটে, তবে ভেনেজুয়েলা চালানোর ক্ষেত্রে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন