তাহলে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে দেলসিরও কি ভূমিকা ছিল

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ (মাঝে), তাঁর ভাই দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান জর্জ রদ্রিগেজ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো (ডানে)ফাইল ছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ও তাঁর ভাইয়ের। মাদুরোকে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরে গেলে তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এ আলোচনার উচ্চ পর্যায়ে যুক্ত ছিলেন, এমন চারটি সূত্র গার্ডিয়ানকে এ তথ্য দিয়েছে। এ মাসের শুরুতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে রাজধানী কারাকাসের সেফ হোম থেকে তুলে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর ৫ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন দেলসি। তিনি মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

সূত্রগুলো দাবি করেছে, দেলসি ও তাঁর ভাই জর্জ রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের আগেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গোপনে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করেছিলেন, মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়াকে তাঁরা স্বাগত জানাবেন।

গার্ডিয়ান জানতে পেরেছে, মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের যোগাযোগ শুরু হয় গত শরতে। গত বছর নভেম্বরের শেষ দিকে ট্রাম্প ও মাদুরোর মধ্যে ফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলাপের পরও এই যোগাযোগ অব্যাহত থাকে।

আর গত রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছিল, ভেনেজুয়েলার প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযানের কয়েক মাস আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। কাবেলো ভেনেজুয়েলার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ করেন।

ওই ফোনালাপে ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে মাদুরোকে ভেনেজুয়েলা ছেড়ে যেতে বলেছিলেন। মাদুরো সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আলোচনায় যুক্ত থাকা এক মার্কিন কর্মকর্তা গার্ডিয়ানকে বলেন, ডিসেম্বরে দেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বলে দেন, তিনি প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, দেলসি স্পষ্ট বার্তায় বলেছিলেন, ‘মাদুরোকে যেতে হবে।’

এ বিষয় সম্পর্কে জানেন এমন আরেক ব্যক্তি বলেন, তিনি (দেলসি) বলেছিলেন, ‘পরিণতি যা–ই হোক, আমি সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজ করব।’

সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শুরুতে (ভেনেজুয়েলার) শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সংশয়ী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁরাও বিশ্বাস করতে শুরু করেন, দেলসি রদ্রিগেজের প্রতিশ্রুতি মাদুরো চলে যাওয়ার পর বিশৃঙ্খলা এড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায়।

মাদুরোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্পের যে আচরণ ছিল, তাতেও ভেনেজুয়েলার শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর কথা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল।

মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে দেলসি রদ্রিগেজ ও তাঁর ভাই জর্জ রদ্রিগেজের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে গণমাধ্যমে এর আগে কখনো খবর প্রকাশ হয়নি।

এর আগে গত অক্টোবরে মিয়ামি হেরাল্ড কাতারের মাধ্যমে ব্যর্থ আলোচনার খবর প্রকাশ করেছিল। ওই খবরে দাবি করা হয়েছিল, দেলসি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যদি মাদুরো পদত্যাগ করেন, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আর গত রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছিল, ভেনেজুয়েলার প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযানের কয়েক মাস আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। কাবেলো ভেনেজুয়েলার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ করেন।

নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কে আদালতে হাজির করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ৫ জানুয়ারি
ছবি: রয়টার্স
আরও পড়ুন

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেলেও দেলসি বা তাঁর পরিবার মাদুরোকে উৎখাত করার পরিকল্পনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না, সব সূত্র জোর দিয়ে এমন কথা-ই বলেছে।

তাদের দাবি, দেলসি রদ্রিগেজ যে সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন, তাঁর সঙ্গে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পরিকল্পনার মধ্যে সুক্ষ্ম পার্থক্য আছে। রদ্রিগেজ ভাই-বোন মাদুরোর বিরুদ্ধে কোনো অভ্যুত্থান পরিকল্পনা বা কূটকৌশলে জড়িত ছিল না।

মাদুরোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্পের যে আচরণ ছিল, তাতেও ভেনেজুয়েলায় শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর কথা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল।

আরও পড়ুন

ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছিলেন, দেলসি রদ্রিগেজও এতে যুক্ত ছিলেন।

ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা তাঁর সঙ্গে বহুবার কথা বলেছি এবং তিনি বুঝতে পেরেছেন, তিনি বুঝতে পারছেন।’

এই প্রতিবেদনের বিষয়ে গার্ডিয়ান থেকে ভেনেজুয়েলা সরকারের কাছে পাঠানো ই–মেইল প্রশ্নের কোনো উত্তর মেলেনি। হোয়াইট হাউসও প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।

আরও পড়ুন