মাচাদোকে বাদ দিয়ে ট্রাম্প কেন দেলসিকে বেছে নিলেন

গত সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনার পর কারাকাস নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সব ছাপিয়ে একটি প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে; কেন নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে বাদি দিয়ে নিকোলা মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেওয়া হলো? সাবেক মার্ক্সবাদী গেরিলা
নেতার কন্যা দেলসির মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এমন কী দেখল যে তারা মুগ্ধ হলো? ভেনেজুয়েলায় নিযুক্ত সাবেক এক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতে, এর উত্তর খুবই সহজ।

২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত কারাকাসে জর্জ ডব্লিউ বুশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা চার্লস শাপিরো বলেন, তারা গণতন্ত্রের চেয়ে স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

শাপিরোর মতে, ‘তারা স্বৈরাচারী শাসককে সরিয়েছে ঠিকই, কিন্তু স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোটিকেই বহাল রেখেছে। সেই পুরোনো দোসররা এখনো সেখানে রয়ে গেছে। আমি মনে করি, এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ।’

মাচাদোকে অযোগ্য ঘোষণা

গত শনিবার ট্রাম্প অনেক পর্যবেক্ষককে অবাক করে দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলায় মাচাদোর প্রতি সবার শ্রদ্ধা নেই। অন্যদিকে, রদ্রিগেজকে তিনি ‘ভদ্র ও মার্জিত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। কারাকাসে মার্কিন দূতাবাসের সাবেক উপপ্রধান কেভিন হুইটেকার ট্রাম্পের এই মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা আমাকে অবাক করেছে। তাঁর রাজনৈতিক দল বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিল। ফলে মাচাদোকে বাতিল করার অর্থ হলো পুরো গণ–আন্দোলনটিকেই অস্বীকার করা।’

ষড়যন্ত্রতত্ত্ব

যে ক্ষিপ্রতা ও অনায়াস দক্ষতায় মাদুরোকে সরিয়ে রদ্রিগেজকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, তা দেখে অনেক বিশেষজ্ঞ সন্দেহ করছেন যে সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়তো আগে থেকেই মার্কিন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা লিন্ডসে মোরান বলেন, ‘এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ যে আমরা কেবল মাদুরোকেই আটক করলাম এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট বহাল তবিয়তে রয়ে গেলেন। এটা স্পষ্ট যে প্রশাসনের অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ে আমাদের তথ্যদাতা ছিল। আমার প্রাথমিক ধারণা, সেই তথ্যদাতা খোদ ভাইস প্রেসিডেন্টের দপ্তরের কেউ, এমনকি স্বয়ং ভাইস প্রেসিডেন্টও হতে পারেন।’

তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফিল গানসন, যিনি বর্তমানে কারাকাসেই অবস্থান করছেন, এই ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভেনেজুয়েলার প্রকৃত ক্ষমতা এখনো প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ ও কট্টরপন্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলোর হাতেই রয়েছে, যাঁরা দুজনই মাদুরোর অন্ধ অনুগত।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মাচাদোকে ক্ষমতায় বসালে দেশটিতে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে, এমন সতর্কবার্তার কারণেই রদ্রিগেজকে বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন। গত অক্টোবরেই আইসিজি এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছিল, ওয়াশিংটনের উচিত হুট করে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকা।