মাদুরোকে তুলে নেওয়ার প্রভাব পড়বে তেলের বাজারে
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো অনিশ্চিত। এ পরিস্থিতিতে তেলের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণত কোনো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে দাম তাৎক্ষণিকভাবে বা কয়েক দিনের জন্য বেড়ে যায়। তবে বিশ্ব তেলের বাজারে ভেনেজুয়েলার ভূমিকা এখন আগের মতো নেই। বর্তমানে তাদের রপ্তানি দৈনিক মাত্র ৫ লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি।
শ্রমিক অসন্তোষ ও নাশকতার ঝুঁকি
দেশটির জন্য এখন বড় ঝুঁকি হলো, তেলখনির শ্রমিকদের ধর্মঘট বা নাশকতার আশঙ্কা। সে ক্ষেত্রে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি কয়েক দিনের বদলে কয়েক মাস দীর্ঘ হতে পারে। যদিও মাদুরো এই খাতের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন, তবে শ্রমিকদের চরম দারিদ্র্যের খবরগুলো ইঙ্গিত দেয় যে মাদুরোর পতনে তাঁদের প্রতিক্রিয়া হবে পরোক্ষ। এমনকি যদি মূল শ্রমিকেরা সরকারের প্রতি অনুগতও হয়ে থাকেন, তবু দেশের বর্তমান ভয়াবহ দুর্দশা তাঁদের অজানা নয়।
নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
যদি ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তবে তাঁর প্রথম লক্ষ্য হবে তেলশিল্পের আধুনিকায়ন। বিনিয়োগের অভাবে ধুঁকতে থাকা ভেনেজুয়েলার তেলখনিগুলোয় যদি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়, তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ দৈনিক অতিরিক্ত পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
বাজারের ওপর প্রভাব
তেলের বাজার বর্তমানে এমনিতেই সরবরাহের আধিক্যের কারণে চাপের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলা যদি উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, তবে তা বাজারের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নতুন কোনো সরকার এলে তারা নিজেদের অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য উৎপাদন বাড়াতে মরিয়া থাকবে এবং ওপেক প্লাসের তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ হয়তো কানে তুলবে না।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের অন্যতম বিশাল তেলের মজুত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও বিনিয়োগের অভাবে দেশটি এর সুবিধা নিতে পারেনি। মাদুরোর বিদায়ের পর যদি একটি স্থিতিশীল ও বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে ভেনেজুয়েলা আবারও বিশ্ববাজারে অন্যতম শীর্ষ তেল সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে। যার অর্থ হলো, ভবিষ্যতে তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা আরও কমে যাওয়া।