ব্রাজিলের নির্বাচনী রীতি অনুযায়ী ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত প্রার্থী পরাজয় মেনে নিয়ে বিবৃতি দেন এবং জয়ী প্রার্থীকে ফোন করে অভিনন্দন জানান। তবে বলসোনারো এখনো এর কোনোটি করেননি। বলসোনারোর আগের নানা বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শঙ্কা করা হচ্ছে, তিনি সহজে পরাজয় স্বীকার করবেন না। এ নিয়ে দেশটিতে বাড়ছে উত্তাপ।

এতে করে এমন প্রশ্ন উঠেছে, বলসোনারো আদৌ পরাজয় মেনে নেবেন কি না। কট্টর ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত বলসোনারো নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এখনো জনসমক্ষে কথা বলেননি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেননি। এর আগে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

আগামী ১ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন লুলা। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরের এ প্রক্রিয়া যে কঠিন হতে যাচ্ছে, তার আলামতও পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল সোমবার বলসোনারোর সমর্থকেরা ব্রাজিলের অন্তত ১১টি রাজ্যে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। মাঝরাস্তায় গাড়ি রেখে ও টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচলও বন্ধ করে দেন।

সোমবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দার মোরায়েস পুলিশকে দ্রুত বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেন। পরে কিছু এলাকায় বলসোনারো সমর্থকেরা রাস্তা ছেড়ে চলে যান। সড়ক অবরোধে ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে পরিবহন ফেডারেশনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বিচারপতি এ নির্দেশ দেন।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরাজিত প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকেরা হামলা করেছিলেন, বলসোনারো ও তাঁর সমর্থকদের এমন অবস্থানে তেমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে পরাজয় মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ভোটের ফলাফল মেনে পরাজয় স্বীকার না করায় প্রতিদ্বন্দ্বী বলসোনারোর সমালোচনা করেছেন। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর রোববার রাতের বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর অন্য কোনো জায়গায় হলে পরাজিত প্রেসিডেন্ট আমাকে ফোন করে পরাজয় স্বীকার করতেন।’