নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর পাওয়া গেল মেক্সিকোর সাংবাদিকের মরদেহ

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের হিসাব অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে মেক্সিকোতে ১৫০ জনের বেশি সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন
ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

মেক্সিকোর শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘লা হর্নাদা’-এর এক সাংবাদিকের মরদেহ গতকাল শনিবার উদ্ধার করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য নায়ারিত থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর তাঁর লাশ পাওয়া গেল। লা হর্নাদা কর্তৃপক্ষ খবরটি নিশ্চিত করেছে।

সংবাদপত্রটির ওয়েবসাইটে বলা হয়, তেপিক মিউনিসিপ্যালিটির হুয়াচিনেস গ্রামে খুঁজে পাওয়া মরদেহটি ৫৯ বছর বয়সী লুইস মার্টিন স্যানশেজ ইনিগুয়েজের। তিনি লা হর্নাদার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ছিলেন।

ওই সাংবাদিকের স্ত্রী সেসিলিয়া লোপেজ তদন্তকারীদের বলেছেন, তিনি অন্য এক শহরে তাঁর এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। গত বুধবার রাতের পর থেকে তিনি তাঁর স্বামী স্যানশেজ ইনিগুয়েজের খোঁজ পাচ্ছিলেন না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে লা হর্নাদা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন

গতকাল সকালে নায়ারিতের রাজধানী তেপিকের কাছের একটি গ্রাম এলাকায় স্যানশেজ ইনিগুয়েজের মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরদেহটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে মোড়ানো ছিল। স্যানশেজের বুকে একটি বার্তা লেখা ছিল। তবে এসব খবরের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

স্যানশেজ বুধবার রাতে বাড়িতে ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী লোপেজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

লোপেজ বলেছেন, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার সময় স্যানশেজের পরনে যে পোশাক ছিল, তিনি যে ওয়ালেট ব্যবহার করতেন, সবই ঠিকঠাকমতো আছে। শুধু লা হর্নাদার প্রতিনিধি হিসেবে স্যানশেজের যে পরিচয়পত্রটি ছিল, সেটি নেই।

পরিবারটি আরও বলেছে, স্যানশেজের কম্পিউটার, মুঠোফোন, হার্ড ড্রাইভ এবং স্যান্ডেল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এর আগেও লা হর্নাদার সাংবাদিকেরা হামলা ও খুনের শিকার হয়েছেন। ২০১৭ সালের মার্চে চিহুয়াহুয়াতে সাংবাদিক মিরোস্লাভা ব্রিচ খুন হন। একই বছরের মে মাসে সিনালোয়াতে হত্যার শিকার হন জ্যাভিয়ের ভালদেজ।

মেক্সিকোকে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) হিসাব অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে মেক্সিকোতে ১৫০ জনের বেশি সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন।

মেক্সিকোর সরকারি হিসাবে, ২০২২ সালে দেশটিতে ১৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হওয়া বেশির ভাগ অপরাধের ঘটনাতেই সাজা হয়নি।