বলিভিয়ায় কি বামপন্থী শাসনের অবসান হচ্ছে, দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়াতে পারে
ভোটে কোন প্রার্থী এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছেন না, তাই বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন রানঅফ বা দ্বিতীয় দফায় গড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল রোববার বলিভিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের ভোটে দেশটিতে ২০ শতকের বামপন্থী শাসনের অবসান ঘটতে চলেছে।
আংশিক ফলাফলের ভিত্তিতে জরিপ সংস্থা ইপসোস এবং ক্যাপচুরার পৃথক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খানিকটা চমক সৃষ্টি করে সবচেয়ে বেশি ৩১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন মধ্য-ডানপন্থী সিনেটর রদ্রিগো পাজ।
পাজের পরেই আছেন ডানপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট হোর্হে ‘তুতো’ কুইরোগা রামিরেজ। ইপসোস এবং ক্যাপচুরার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ২৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
ধনকুবের ব্যবসায়ী মধ্য-ডানপন্থী স্যামুয়েল দোরিয়া মেদিনা প্রায় ২০ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। ভোটের আগের জরিপগুলোতে মোদিনা সবচেয়ে বেশি ভোট পেতে পারেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তিনি মূল বামপন্থী প্রার্থী সিনেট প্রেসিডেন্ট আন্দ্রোনিকো রদ্রিগেজের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি কোনো প্রার্থী ৪০ শতাংশের বেশি ভোট না পান এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীর চেয়ে ভোটের ব্যবধান ১০ শতাংশের কম হয়, তবে ভোট দ্বিতীয় দফায় গড়াবে। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফা ভোট হবে আগামী ১৯ অক্টোবর। তার সাত দিনের ভেতর আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
ধনকুবের ব্যবসায়ী মধ্য-ডানপন্থী স্যামুয়েল দোরিয়া মেদিনা ২০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। ভোটের আগের জরিপগুলোতে শেষ দিকে মোদিনা সবচেয়ে বেশি ভোট পেতে পারেন বলে পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল।
লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়া এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। এবারের নির্বাচনে এ বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। তাই বিপুলসংখ্যক ভোটার বর্তমান সমাজতান্ত্রিক সরকারের হাত ছেড়ে দিয়েছেন।
গত মাসে বলিভিয়ার বার্ষিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছে যায়। পাশাপাশি রয়েছে ডলার ও জ্বালানির তীব্র সংকট। অধিকাংশ বলিভিয়ান ডলারে সঞ্চয় করেন।
২০০৫ সালে ইভো মোরালেস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে বলিভিয়ায় সমাজতান্ত্রিক শাসনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। গত রোববারের ভোটের মাধ্যমে ২০ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসনের যবনিকাপাত হতে চলেছে।
বামপন্থীরা আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। আমি দেশে পরিবর্তন চাই।মিরিয়াম এস্কোবার, ভোটার
মোরালেস একজন আদিবাসী কোকা চাষি, পুঁজিবাদবিরোধী প্ল্যাটফর্মে ভোটের প্রচার চালিয়ে তিনি নির্বাচিত হন। কিন্তু এবার মুভমেন্ট টুওয়ার্ডস সোশ্যালিজম (এমএএস) দলকে ভোটাররা শাস্তি দিতে চলেছেন বলে আগেই জরিপে আভাস পাওয়া যাচ্ছিল।
অবসরে যাওয়া ৬০ বছর বয়সী ভোটার মিরিয়াম এস্কোবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘বামপন্থীরা আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। আমি দেশে পরিবর্তন চাই।’