ভেনেজুয়েলা ছাড়তে মার্কিন নাগরিকদের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের, ভয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মাদুরোর পক্ষের এক মিছিলে এভাবে অংশ নেন কোলেক্তিভোসের এক সদস্যকে। ৪ জানুয়ারি তোলাছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় থাকা মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ছাড়তে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার এক সপ্তাহ পর এমন আহ্বান এল। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সশস্ত্র আধা সামরিক গোষ্ঠীগুলো মার্কিন নাগরিকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে—এমন খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার জারি করা এক নিরাপত্তা সতর্কতায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সরকারপন্থী মিলিশিয়া ‘কোলেক্তিভোস’-এর সশস্ত্র সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করছে এবং গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। যাত্রীদের মধ্যে কেউ মার্কিন নাগরিক বা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থক কি না, তা খুঁজে দেখাই এসব তল্লাশির উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।

নিরাপত্তা সতর্কতায় আরও বলা হয়, ভেনেজুয়েলায় থাকা মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এবং সড়কপথে চলাচলের সময় বিশেষভাবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ভেনেজুয়েলা থেকে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আবার চালু হওয়ায় নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে তিনি ভেনেজুয়েলা সফর করতে চান। তিনি দাবি করেন, কারাকাসে প্রাণঘাতী রাতের অভিযানে ভেনিজুয়েলার নেতৃত্ব অপসারণের পর যুক্তরাষ্ট্র কার্যত দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি ‘চালাচ্ছে’। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয়, কোনো এক সময় পরিস্থিতি নিরাপদ হবে।’

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সতর্কতায় স্পষ্ট হয়েছে, গত সপ্তাহান্তে বিশেষ বাহিনীর অভিযানে বহু মানুষ নিহত হওয়ার পরও ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এখনো কতটা অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ নিরাপত্তা’ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং সেখানে শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশটির তেল খাতে বিশাল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা গেলে তা ‘স্বল্প সময়ের মধ্যে লাভজনক’ হবে এবং মার্কিন তেলের বাজারেও লাভবান হওয়া যাবে।

ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তেল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বলেন, ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ করলে তারা ‘সম্পূর্ণ নিরাপত্তা’ পাবে। তিনি বলেছেন, কোম্পানিগুলো নিজেদের অর্থ—মোটামুটি ১০০ বিলিয়ন ডলার—বিনিয়োগ করবে, রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে নয় এবং কাজের নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের সহযোগিতা করবে।

তবে অনেক তেল সংস্থা বিনিয়োগ বিষয়ে সরাসরি প্রতিশ্রুতি দেয়নি। একাধিক শীর্ষ নির্বাহী জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা ‘বিনিয়োগে অনুপযোগী’ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সেখানে দীর্ঘ যৌক্তিক ও আইনি সংস্কার না হলে বড় বিনিয়োগ কঠিন।

এদিকে মাদুরো সরকারের বিরোধীরা অনেকেই তাঁর আটক ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সরকারের পক্ষে থাকা সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে এটিকে ‘ঔপনিবেশিক আগ্রাসন’ হিসেবে নিন্দা করছেন।

ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন নিরাপত্তা সতর্কতার জবাবে এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা ‘মনগড়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঝুঁকি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই’ করা হয়েছে এবং দেশটি ‘সম্পূর্ণ শান্ত, স্থিতিশীল ও নিরাপদ’ অবস্থায় আছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জনবসতি, যোগাযোগপথ, চেকপোস্টসহ সব নিরাপত্তাব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কার্যকর হচ্ছে এবং রাজ্যের অস্ত্র ও নিরাপত্তা সরকারি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।