যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভেনেজুয়েলায় ৫ মার্কিন নাগরিক আটক

ভেনেজুয়েলায় সেনাবাহিনীর এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, লা গুয়াইরাছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে গত কয়েক মাসে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী কমপক্ষে পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আটকের এসব ঘটনার প্রতিটির প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আটক মার্কিন নাগরিকদের কেউ কেউ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। আটকের সময় তাঁরা ভেনেজুয়েলায় কী করছিলেন, সে সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ তথ্য সংগ্রহ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধারণা, মার্কিন নাগরিকদের আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে মাদুরো সরকার। গত কয়েক মাসে মাদুরোর ওপর মার্কিন চাপ তীব্রতর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

মাদুরোর ওপর চাপ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে গত কয়েক মাসে মাদক পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ভেনেজুয়েলার একাধিক নৌকায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার বন্দরে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা–সিআইএর হামলা এবং জ্বালানিবাহী জাহাজ অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।

ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় দেশটির নাগরিকেরা অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন
ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার এ কৌশল দেশটির দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়ার মতো। রাশিয়া গত কয়েক বছরে রাশিয়ার ভূখণ্ড থেকে অনেক মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিজেদের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এসব কৌশল অবলম্বন করেছে মস্কো।

ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি আটক হওয়া মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে সবার আগে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সাড়া দেয়নি। হোয়াইট হাউসও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তনের চেষ্টার কথা স্বীকার না করলেও মাদুরোকে অবৈধ তকমা দিয়ে মাদক পাচারকারী হিসেবে ঠিকই অভিযুক্ত করেছেন। মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী জাহাজ জব্দসহ বিভিন্ন আর্থিক কৌশল অবলম্বন করছে।
গত ডিসেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মাদুরোর পরিবারের সদস্যদের ওপর দুই দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে মাদুরোর তিন ভাগনে, তাঁর ভগ্নিপতি এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনকে নিশানা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন