কারাকাসে বিকট বিস্ফোরণ, ভেনেজুয়েলায় কি তাহলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাল

ভেনেজুয়েলার কারাকাসে আজ শনিবার একাধিক বিস্ফোরণের সময় ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছেছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আজ শনিবার ভোরে বিকট শব্দ, যুদ্ধবিমানের আওয়াজ শোনা গেছে। একই সঙ্গে আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, শহরের দক্ষিণ অংশে একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে কারাকাসজুড়ে বেশ কিছু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব বিস্ফোরণের সঠিক কারণ বা নির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রয়টার্স ভিডিওগুলোর সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।

তবে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলা আক্রান্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ‘ঠিক এ মুহূর্তে তারা কারাকাসে (ভেনেজুয়েলার রাজধানী) বোমা হামলা চালাচ্ছে...। তারা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করছে।’

পাশাপাশি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত দুইটার দিকে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিভিন্ন এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

কারমেন হিদালগো নামের ২১ বছর বয়সী এক চাকরিজীবী বলেন, ‘কারাকাসের পুরো মাটি কেঁপে উঠেছিল। এটা ভয়াবহ অবস্থা। আমরা দূরে বিস্ফোরণের শব্দ আর যুদ্ধবিমানের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারাকাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। এর একটি হলো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি। অন্যটি ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি। এটিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে থাকেন বলে মনে করা হয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ভেনেজুয়েলার সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের ব্যাপারে বারবার হুমকি দিয়ে আসছেন। জনসমক্ষে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যের কথা না জানালেও রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে দেশ ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। গত সোমবারও ট্রাম্প বলেছিলেন, মাদুরোর ক্ষমতা ত্যাগ করাই হবে ‘বুদ্ধিমানের কাজ’।

কারাকাসের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সম্প্রতি ওই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত ফাইটার জেট মোতায়েন করে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেলের ওপর ‘অবরোধ’ আরোপ করেছে এবং নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। এ ছাড়া মাদক পাচারের অভিযোগে প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার দুই ডজনের বেশি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

ট্রাম্পের অভিযোগ, দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশ যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহ করছে। কয়েক মাস ধরেই মাদক পাচারের অভিযোগে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা বিভিন্ন নৌযানে হামলা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে মাদুরো সরকার মাদক পাচারের এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং বিশ্বের অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।