মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে যে ভুয়া ভিডিওগুলো ছড়াচ্ছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। হুড়োহুড়ির মধ্যে কেউ কেউ পড়ে যাচ্ছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের হামলার পর ইসরায়েলে ইহুদিরা পালানোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খুঁজে পাচ্ছেন না।

লিংক: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি দেখা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০, শেয়ার হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ বার এবং মন্তব্য পড়েছে ১৩০–এর বেশি।

লিংক: এখানে

‘ইরান আপডেট’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট ২ মার্চ ভিডিওটি প্রকাশ করে একই দাবি করলে সেখানে ২১ লাখের বেশি ভিউ হয়।

লিংক: এখানে

তবে কি-ফ্রেম সার্চে দেখা যায়, ভিডিওটি চলমান যুদ্ধের নয়। একই ভিডিও ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল ‘Xnews_with_Grok’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল। ভিডিওটিতে RT(রাশিয়া টুডে)–এর লোগোও দেখা যায়।

লিংক: এখানে

আরও যাচাইয়ে জানা যায়, ‘JewishBreakingNews’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করেছিল, এটি তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারের একটি ঘটনার দৃশ্য, যেখানে ভুয়া সতর্কতার কারণে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।

লিংক: এখানে

‘myfalastin’ নামের আরেকটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও একই ভিডিও পোস্ট করে জানায়, পুলিশের একটি গ্রেপ্তার অভিযানকে ঘিরে সৃষ্ট ভুল–বোঝাবুঝি থেকে গণ–আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়িতে অন্তত ২০ জন আহত হন।

লিংক: এখানে

ইসরায়েলের প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে ঘটে। সেদিন ইসরায়েলের জাতীয় স্মরণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের (উশার) ঘিরে ভুল–বোঝাবুঝির কারণে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ২০ জন সামান্য আহত হন।

ঘটনাটি নিয়ে The Times of Israel ও The Jerusalem Post–এ প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

লিংক: এখানে, এখানে

সুতরাং ইরানের হামলার পর ইসরায়েলের নাগরিকেরা পালাচ্ছেন—এ দাবিতে যে ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর।

মেক্সিকোর ক্যাসিনোতে আগুনের দৃশ্যকে ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে হামলা বলে প্রচার

ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে যেখানে বলা হচ্ছে, ইরানি মিসাইল হামলায় ইসরায়েলি বিমানঘাঁটিতে আগুন ও বিস্ফোরণ ঘটেছে।

লিংক:এখানে, এখানে

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি থেকে প্রাপ্ত কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডেইলি মেইলের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডটি ঘটে মেক্সিকোর কুলিয়াকান শহরের একটি ক্যাসিনোতে। ভিডিওতে যে বিস্ফোরণ এবং আগুনের কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ক্যাসিনো এবং সংলগ্ন শিশুপার্কের ভেতর থাকা দাহ্য পদার্থ বা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে সৃষ্ট। এর ফলে ক্যাসিনোর ছাদ ধসে পড়ে।

লিংক: এখানে

এই ঘটনা সম্পর্কে যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র মিররে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি। অগ্নিকাণ্ডের সময় ক্যাসিনো এবং পার্কের ভেতর থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

লিংক: এখানে

দেখা যাচ্ছে যে বর্তমান ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা বা পাল্টাপাল্টি হামলার অনেক আগেই এই অগ্নিকাণ্ডটি মেক্সিকোতে ঘটেছিল।

নেতানিয়াহুর হেডকোয়ার্টারে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ভিডিওটি এআই-নির্মিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার হতে দেখা যাচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর ও বাসভবনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার দৃশ্য সেটি।

লিংক: এখানে, এখানে, এখানে

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ১ মার্চ এমন ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, ‘ইফতারের আগে শুভ সংবাদ। কিছুক্ষণ আগে নেতানিয়াহুর হেডকোয়ার্টার, বাসভবনে মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরান।’ এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগপর্যন্ত ১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি দেখা হয়েছে।

লিংক: এখানে

১৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট ভবন দেখা যায়। ভিডিওর প্রথম সেকেন্ডে ভবনটিতে একটি মিসাইল বিস্ফোরিত হতে দেখা যায়। ৭ সেকেন্ডে আরেকটি মিসাইল ভবনটিতে বিস্ফোরিত হয়। ১৬ সেকেন্ডে ভবনটি ধসে পড়তে দেখা যায়।

ভিডিওটি যাচাইয়ে বেশ কিছু অসংগতি খুঁজে পাওয়া যায়। প্রথম বিস্ফোরণের পর ভবনটি ধসে পড়ার কোনো আলামত দেখা যায়নি। এমনকি ভবনের কোথাও কোনো ফাটল দেখা যায়নি। দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি সে তুলনায় বড় হয়, তবে এবারো ভবনটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভবনের ওপরে ইসরায়েলের পতাকাও উড়তে দেখা যায়।

আরও বিস্তারিত যাচাইয়ে এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রবল।