কুকুরের চিৎকারে বন্ধ হলো রাজনীতিকের সাক্ষাৎকার

এবিসি টিভির লাইভ সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী বার্নাবি জয়েসছবি: এক্স

টেলিভিশনে লাইভ সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী বার্নাবি জয়েস। হঠাৎ সাক্ষাৎকার থামিয়ে চিৎকার করে উঠলেন, ‘বসে পড়ো।’ মুহূর্তেই এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিতে গত সোমবার রাতে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে জয়েস পরে সাংবাদিককে বলেন, ‘দুঃখিত, এটা কুকুরটার জন্য।’

এর কিছুক্ষণ পর কুকুরটি আবার ঘেউঘেউ শুরু করলে জয়েস বলেন, ‘কুকুরটির জন্য আমি দুঃখিত। হঠাৎ করেই এটি ঘেউ ঘেউ শুরু করেছে।’

এ সময় সাংবাদিক ও উপস্থাপক সারা ফার্গুসন বলেন, ‘কুকুর নিয়ে ভাববেন না, শুধু প্রশ্নের উত্তর দিন।’

জবাবে জয়েস বলেন, ‘অভদ্র হবেন না, সারা। তা না হলে এই সাক্ষাৎকার এখানেই থেমে যাবে।’

বার্নাবি জয়েসকে তাঁর দলের প্রধান পলিন হ্যানসনের সঙ্গে কট্টর ডানপন্থী ব্রিটিশ কর্মী টমি রবিনসনের বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করছিলেন ফার্গুসন।

গবাদিপশুর খামারি হিসেবে পরিচিত জয়েস এর আগেও কুকুর নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। এর আগে এই রাজনীতিবিদ হলিউড অভিনেতা জনি ডেপের পোষা কুকুরকে মেরে ফেলারও হুমকি দিয়েছিলেন।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, হ্যানসনের নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী দল ওয়ান নেশন কয়েক দশক প্রান্তিক অবস্থানে থাকার পর সম্প্রতি সবচেয়ে জনপ্রিয় দলে পরিণত হয়েছে।

হ্যানসন সম্প্রতি টমি রবিনসনের সঙ্গে এক পডকাস্টে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন। সাবেক উগ্র ও সহিংস ফুটবল সমর্থক রবিনসন পরে ইসলামবিরোধী কর্মী হিসেবে পরিচিতি পান। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তাঁর প্রভাব বেড়েছে।

রবিনসনকে ওই পডকাস্টে হ্যানসন বলেছিলেন, ১৯৭০-এর দশকে ‘হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া’ নীতির অবসান, যে নীতির মাধ্যমে অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসন সীমিত করা হতো, বর্তমান অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সমস্যার জন্য তা আংশিকভাবে দায়ী। এ মন্তব্যের কারণে হ্যানসন দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

তবে পরে হ্যানসন দাবি করেন যে তিনি ‘হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া’ নীতি পুনর্বহালের আহ্বান জানাননি।