বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিবিসির খবরে বলা হয়, ব্যবহারিক কাজের উপযোগী বড় আকারের কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। ফলে কোয়ান্টাম কম্পিউটার এখনো পরীক্ষাগারেই রয়ে গেছে।

আইবিএমের তৈরি ‘ইগল’ নামের নতুন চিপ ১২৭ কিউবিটের; যা তাদের আগের প্রসেসরের দ্বিগুণ গতিসম্পন্ন। কিউবিটস বা কোয়ান্টাম বিটস হচ্ছে কোয়ান্টাম কম্পিউটারে তথ্যের সবচেয়ে মৌলিক একক।

আইবিএম নতুন ইগল প্রসেসরকে ব্যবহারিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে অভিহিত করেছে। তবে একজন কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এই কম্পিউটারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির বিষয়টি মূল্যায়ন করার জন্য আরও বিশদ তথ্য প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম্পিউটিং শক্তি (কম্পিউটারের গাণিতিক হিসাব–নিকাশ) ব্যাপকভাবে সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠায় কোয়ান্টাম কম্পিউটারে আগ্রহ বেড়েছে। এ কম্পিউটার ব্যবহার করে নতুন উপকরণ শনাক্ত, ওষুধের বিকাশ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো দিকগুলো উন্নত করা যেতে পারে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার অদ্ভুত উপায়ে পদার্থের খুব সূক্ষ্ম আচরণও ধরতে পারে। ক্ল্যাসিক বা প্রথাগত কম্পিউটারে তথ্যের একককে বিট বলা হয়। এর মান ধরা হয় ১ বা ০। কিন্তু কোয়ান্টাম ব্যবস্থায় কিউবিট একই সময়ে এক বা শূন্য হতে পারে।

গবেষকেরা কয়েক দশক ধরেই কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ ধরনের কম্পিউটার গতির দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকবে বলে তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। বাইনারি পদ্ধতিতে সংখ্যা মাত্র দুটি—০ ও ১। এই সংখ্যাপদ্ধতি দিয়ে সব ধরনের কাজ সম্পন্ন করে এখনকার কম্পিউটার। তবে একই সঙ্গে ০ ও ১-এর প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। এ জায়গাতেই এগিয়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটার।

ইগল প্রসেসরটি আইবিএমের ২০২০ সালে উন্মোচিত ৬৫ কিউবিট হামিংবার্ড ও ২০১৯ সালের ২৭ কিউবিট ফ্যালকনের অনুসরণে তৈরি করা হয়েছে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সুবিধা অনেক। খুব বেশিসংখ্যক গাণিতিক সমস্যার সমাধান এটি করে না। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রথাগত কম্পিউটার যে অল্পসংখ্যক জটিল সমস্যার সমাধান করতে গলদঘর্ম হয়, সেসব সমস্যার সমাধান এক লহমায় করতে পারবে কোয়ান্টাম কম্পিউটার। ফলে ওষুধশিল্প থেকে শুরু করে তেলশিল্প—সবখানেই বিপ্লব আনতে পারে কোয়ান্টাম কম্পিউটার। বিশেষ করে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান দ্রুত করে ফেলা যাবে। তৈরি হবে নতুন ওষুধ। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক অ্যালগরিদম আরও উন্নত করা যাবে। এমনকি যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রাথমিক রূপ নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন, সেটিও শিগগির উন্নত করে ফেলা যাবে।

আইবিএমের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও গবেষণা পরিচালক দারিও গিল বলেন, ইগল প্রসেসর কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ। প্রয়োজনীয় কাজের ক্ষেত্রে প্রথাগত কম্পিউটারকে ছাড়িয়ে যাবে এটি। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রায় প্রতিটি খাতকে রূপান্তর করার ক্ষমতা রাখে ও আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা মোকাবিলা করতে সহায়তা করতে পারে।

এর আগে ২০১৯ সালে গুগল ৫৩ কিউবিটের সেকামোর কোয়ান্টাম প্রসেসরের ঘোষণা দেয়। ওই সময় তারা প্রথমবারের মতো ‘কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসি’ অর্জন করার দাবি করে। অর্থাৎ কম্পিউটিং হিসাবের দিক থেকে বা পারফরম্যান্স বিবেচনায় প্রচলিত সব কম্পিউটারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করে গুগল। ‘নেচার’ সাময়িকীতে এ–সংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল।

যখন কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান বা দেশ ওই সব জটিল সমস্যার সমাধান অত্যন্ত কম সময়ে করতে পারবে, তখনই বলা হবে যে তারা কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসি অর্জন করেছে।

গুগল দাবি করে, সেকামোর কোয়ান্টাম প্রসেসর নির্দিষ্ট যে কাজ ২০০ সেকেন্ডে সম্পন্ন করতে সক্ষম, তা বিশ্বের সেরা সুপার কম্পিউটারের সম্পন্ন করতে ১০ হাজার বছর লাগবে।

তবে ২০১৯ সালেই আইবিএমের বিজ্ঞানীরা গুগলের কিছু পরিসংখ্যান ও এর কোয়ান্টাম শ্রেষ্ঠত্বের সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিবিসি ও এএফপি অবলম্বনে মিন্টু হোসেন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন