বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, চীনের উদ্যোগে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অধীনে বিভিন্ন দেশে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে সড়ক, বন্দর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিআরআইয়ের অধীনে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন রোধে প্যারিস চুক্তি অনুসারে কার্বন নিঃসরণ কমাতে চাপ রয়েছে চীনের ওপর। মূলত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন বন্ধেই চীনকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কারণ, সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে চীন। এ ছাড়া বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল দেশটি।

সি চিন পিং বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কার্বন নিঃসরণ কম হয়, এমন বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থ সাহায্য করবে চীন। চীনের বাইরে অন্য কোনো দেশে কয়লানির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অর্থায়ন করবে না তাঁর দেশ। তবে কীভাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে কিছু জানাননি সি চিন পিং। চীনের প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণা থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে চীন যেসব উদ্যোগ নিয়েছিল, তার রাশ টানা হবে।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এ বছরের শুরুর দিকে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু কূটনীতিক জন কেরি এশিয়ার ওই দুই দেশের পথ অনুসরণ করতে চীনকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষায় শান্তিপূর্ণ অভিপ্রায় জানিয়ে সি চিন পিং তাঁর ভিডিও বার্তায় বলেন, চীন সবুজ এবং কম কার্বন নির্গমন করে এমন শক্তি উৎপাদনে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য সমর্থন বাড়াবে।

সি চিন পিংয়ের এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন কেরি। তিনি একে বড় অবদান এবং স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় কপ–২৬ সম্মেলনের আগে যে প্রচেষ্টা প্রয়োজন তার ভালো সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

কেরি বলেন, ‘আমরা চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলেছি। প্রেসিডেন্ট সির এমন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত আনন্দের খবর।’ কপ–২৬–এর প্রধান অলোক শর্মা এ ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার পর কথা বলেন সি চিন পিং। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ চায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন জো বাইডেন। সেখানেই তিনি এসব কথা বলেন।

জো বাইডেন বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তন সহায়তা দ্বিগুণ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান।

বাইডেন আরও বলেন, ‘গত এপ্রিলে আমি ঘোষণা করেছিলাম যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জনসাধারণের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন দ্বিগুণ করবে। যেন উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করতে পারে। আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ করতে কাজ করব।’

এদিকে, পরিমিত বক্তব্যে সি চিন পিং সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিয়ে কথা বলেননি। বাইডেন প্রশাসন জলবায়ু সংকট নিরসনে যে নীতিমালা তৈরি করছে, সেখানে তারা বেইজিংয়ের সহযোগিতা চেয়েছে। বেইজিং তাই একই সুরে কথা বলেছে।

গুতেরেস সি চিন পিংয়ের পদক্ষেপ এবং বাইডেনের মার্কিন কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে ২০২৪ সাল নাগাদ জলবায়ু তহবিল দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কয়লা প্রকল্প থেকে সরে আসা একক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে, যা প্যারিস চুক্তি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে রাখার লক্ষ্য পূরণ করতে পারে।

সি চিন পিংয়ের বক্তব্যের আগে বাইডেন চীনের নাম না নিয়েই বলেন, ‘স্বৈরতন্ত্রের কাছে গণতন্ত্র পরাজিত হবে না। ভবিষ্যৎ তাদেরই হবে, যারা মানুষকে মুক্ত শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা দেয়; যারা মানুষকে দমিয়ে রাখে এবং দম বন্ধ করে দেয়, তাদের ভবিষ্যৎ সুখকর নয়।’

বাইডেন আরও বলেন, ‘আমাদের সবাইকে আহ্বান জানাতে হবে এবং জাতিগত, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের নিন্দা জানাতে হবে। তা জিনজিয়াং বা উত্তর ইথিওপিয়া বা বিশ্বের যেখানেই হোক না কেন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অতীতের যুদ্ধগুলো চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আমরা বৈশ্বিক মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সাইবার নিরাপত্তা হুমকির মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় নজর দেব।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন