default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় ঘোষিত নাগরিক প্রণোদনা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। যাদের প্রকৃত সহযোগিতা পাওয়ার কথা, তাদের অনেকেই তা পায়নি। পেয়েছে নানা সংযোগে থাকা কোম্পানি। বর্তমান প্রশাসন এমনটা ঘটতে দেবে না। অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন প্রণোদনার অর্থের যাতে অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। ১৫ মার্চ হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এসব কথা বলেছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময় করোনার সংক্রমণে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনের জন্য দুই দফা প্রণোদনা আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। তাঁর আমলে প্রণোদনা-সুবিধা প্রান্তিক লোকজনের চেয়ে নানা রাজনৈতিক সংযোগের ব্যবসায়ীরা বেশি করে পেয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। প্রণোদনার অর্থের বিতরণ নিয়ে সঠিক দেখভাল নিশ্চিত না করার কারণে এমনটা হয়েছে বলে মনে করা হয়। তাঁর সময় বহু ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রণোদনার অর্থ পায়নি। ফলে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রণীত ‘আমেরিকা উদ্ধার’ আইনে নাগরিকদের জন্য ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়। উদারনৈতিক অর্থনীতিবিদ জিনি স্পার্লিং প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রণোদনা আইনের বরাদ্দ দেখভাল করবেন। তিনি বাইডেনের প্রণোদনার অর্থের সঠিক ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারে একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি।

বাইডেন বলেছেন, গত বছর ‘কেয়ার অ্যাক্ট’ নামের নাগরিক প্রণোদনা আইন পাসের পর অর্থের সঠিক ব্যবহারের জন্য কংগ্রেস ইন্সপেক্টর জেনারেলদের একটি কমিটি গঠন করে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতেই কমিটির প্রধানকে বরখাস্ত করে। এ কারণে অর্থের সঠিক বিতরণ নিশ্চিত হয়নি।

যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সাহায্যের কথা আইনে বলা হয়েছিল, বরাদ্দের অর্থ সেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছে না গিয়ে সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল। আর কোনো প্রণোদনা সহযোগিতা না পেয়ে চার লাখের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় বলে উল্লেখ করেন বাইডেন। তিনি বলেন, এমন ঘটনা যাতে এবার না ঘটে, তা নিশ্চিত করা হবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

অর্থনীতিবিদ জিনি স্পার্লিং প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে ‘আমেরিকা উদ্ধার’ পরিকল্পনার সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবেন। বাইডেন বলেছেন, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, এমন নাগরিক প্রণোদনার নানা বিষয় কীভাবে দক্ষতার সঙ্গে দেখভাল করতে হয়।

জিনি স্পার্লিং সব অঙ্গরাজ্যের সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করবেন। তিনি প্রণোদনার অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবেন বলে বাইডেন তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

২০০৯ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় ৮০০ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা আইনের দেখভালের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তখনকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

‘স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময় সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এই খাতে প্রণোদনা আইনে বরাদ্দ ছিল ৭০০ বিলিয়ন ডলার।

‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় পে-চেক প্রোটেকশন খাতে ঋণগ্রহীতার মাত্র ১ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশের বেশি জরুরি ঋণ গ্রহণ করতে পেরেছে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, ‘আমাদের সামনে প্রত্যাশার সময় উপস্থিত। জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যাশা অনুযায়ী, অর্থসাহায্য পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা হবে।’

‘আমেরিকা উদ্ধার’ নামের প্রণোদনা আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ইতিমধ্যে জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ ডলার পেতে শুরু করেছেন।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে চলমান মার্কিন অর্থনীতিতে দ্রুত চাঞ্চল্য ফিরে আসবে নতুন প্রণোদনা অর্থের সঠিক বিতরণের মাধ্যমে। যদিও কংগ্রেসে কোনো রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নাগরিক প্রণোদনার সমর্থনে ভোট দেননি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন