৩০ আগস্ট কাবুল ত্যাগের আগমুহূর্ত পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধসরঞ্জাম বিমানবন্দরে প্রস্তুত ছিল। কাবুল ত্যাগের আগে এসব যুদ্ধসরঞ্জাম বিনষ্ট করা হয়েছে। কাবুল ত্যাগের আগে ৭৩টি এয়ারক্র্যাফট, ২৭টি সাঁজোয়া যানসহ বেশ কিছু যুদ্ধসরঞ্জাম চিরতরে ব্যবহারের অনুপযোগী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেনারেল ম্যাকেঞ্জি।

ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ইতিহাসে এমন খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে কোনো সেনা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেনি। একে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর প্রশাসনের চরম অযোগ্যতা-ব্যর্থতা বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব যুদ্ধসরঞ্জাম ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তালেবানকে বলা হোক। পাশাপাশি যুদ্ধসরঞ্জামের ৮৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিটি অর্থ যেন যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের আবার পূর্ণ সামরিক শক্তি নিয়ে আফগানিস্তানে যাওয়া উচিত এবং বোমা বর্ষণ করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত সর্বাধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম এখন তালেবানের হাতে। এর মধ্যে মাইন প্রতিরোধী ট্যাংক, আগ্নেয়াস্ত্র, ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান ইত্যাদি রয়েছে। এ ছাড়া বায়োমেট্রিক ডেটাসহ প্রযুক্তিগত যুদ্ধসরঞ্জাম আফগানিস্তানে ফেলে আসতে হয়েছে মার্কিন বাহিনীকে।

মার্কিন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগের কাছে আফগানিস্তানে ফেলে আসা যুদ্ধসরঞ্জামের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দাবি করেছেন।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির নিরাপত্তাবিষয়ক উপপরিচালক ইলিয়াস ইউসেফ বলেছেন, কোনো সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীর কাছে আমেরিকার তৈরি অস্ত্রশস্ত্র থাকলে, তা তাদের মনোবলকে আরও বৃদ্ধি করবে। মার্কিন অস্ত্রশস্ত্র হাতে পেয়ে তালেবান নিজেদের চাঙা মনে করতেই পারে। এসব অস্ত্র তারা আমেরিকানদের কাছে ফিরিয়ে দেবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।

রিপাবলিকান সিনেটর জন ব্যারাসো ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তালেবানদের হাতে এখন পুরো আফগানিস্তান। তাদের হাতে আছে বিশাল মাদক সাম্রাজ্য, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র। আছে আদম ও মাদক পাচারের অর্থ। তালেবান, আইএস ও আল-কায়েদার কারণে আফগানিস্তান পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রভাবশালী এই মার্কিন আইনপ্রণেতা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন