নির্বাচন বোর্ডের এমন তৎপরতার কারণে খোদ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে এগিয়ে থাকা তিন প্রার্থীকেই আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। সব প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংশয় জোরালো হয়ে ওঠে। এমনকি নির্বাচনে জয় পাওয়া এরিক অ্যাডামসও এ নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বাংলাদেশি একজন প্রার্থী। প্রকাশিত ফল নিয়ে তাঁর সন্দেহ আর অবিশ্বাসের কথাই জানালেন। নগরের ওজোন পার্ক এলাকায় বাস করেন বাংলাদেশি আমেরিকান মোহাম্মদ রহমান। তিনি নির্বাচন ব্যবস্থাপনার ওপর নিজের অনাস্থার কথা জানিয়েছেন।

গত গ্রীষ্মে নিউইয়র্কে প্রতিনিধি পরিষদের প্রাইমারি নির্বাচনে দুটি আসনে জয়ী প্রার্থী ঘোষণা করতে নির্বাচন বোর্ডের ছয় সপ্তাহের বেশি সময় লেগেছে। গত বছর নিউইয়র্কের নির্বাচন অফিস ডাকযোগে আসা পাঁচটির মধ্যে একটি ব্যালট গণনার অযোগ্য ঘোষণা করেছে।

এর আগে নিউইয়র্কের নির্বাচন বোর্ড থেকে এক লাখের বেশি ত্রুটিপূর্ণ ব্যালট ডাকযোগে ভোটারদের কাছে পাঠানো হয়। দ্বিতীয় দফা সঠিক ব্যালট পেপার পাঠিয়ে পরে তা সংশোধন করা হয়। এবারে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে র‍্যাংক চয়েস পদ্ধতিতে ভোট হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারের জন্য এ র‍্যাংক চয়েস ভোট নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। একজন ভোটারের পছন্দের ক্রম অনুসারে ভোট প্রদানের সুযোগ থাকে এবং প্রতিটি পছন্দ কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে। র‍্যাংক চয়েস নির্বাচনব্যবস্থার প্রথম উদ্যোগেই নিউইয়র্কের নির্বাচন বোর্ড অদক্ষতা এবং অব্যবস্থাপনার পরিচয় দিয়েছে।

এর জের ধরে নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র বিল ব্লাজিও যেমন বিবৃতি দিয়েছেন তেমনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে ভুল করেননি। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচন জালিয়াতি নিয়ে তাঁর আগের বক্তব্যকে জোরালো করার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, নিউইয়র্কে রিপাবলিকানদের অস্তিত্ব নেই। এ নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সন্দেহ জোরালো করতে সক্ষম হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত নভেম্বরের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজ্যে ভোট গণনায় চরম অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। মিশিগান, জর্জিয়া, পেনসিলভানিয়া ও অ্যারিজোনা রাজ্যের গণনা নিয়ে ট্রাম্প এবং তাঁর অনুসারীরা অভিযোগ তোলার সুযোগ পেয়েছেন। এর পেছনে প্রধান কারণই হচ্ছে অদক্ষতা এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনা।

‘ইলেকশন মেল্টডাউন’ নামের গবেষণাপত্রের রচয়িতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নির্বাচন বিশেষজ্ঞ রিক হ্যাসেন চারটি বিষয়কে গণতন্ত্র চর্চার ভিত্তি হিসেবে মনে করেন। এর মধ্যে তিনটি হচ্ছে—ভোটার অবদমন, নির্বাচন নিয়ে নোংরা কৌশল এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ভুয়া জালিয়াতির দাবি করে লোকজনের মধ্যে সংশয় ঢুকিয়ে দেওয়া। সব শেষে তিনি বলেছেন, নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য দক্ষতার অভাবও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।