default-image

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া তৎপরতায় বিপাকে পড়েছে ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পরদিন একের পর এক ভিত্তিহীন টুইট ও ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প। এসব সামাল দিতে প্রতিষ্ঠান দুটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা এ নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে—এমন কোনো পোস্ট নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়েছে ফেসবুক ও টুইটার।

মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কোনো পোস্ট সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে আগে থেকেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই এসব নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে কখনো আস্থায় রাখেননি। তিনি টুইটার ও ফেসবুকের মাধ্যমেই দিনভর সরব থেকেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পের আগে কোনো প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন ব্যবহার করতেন না। প্রযুক্তিতে অগ্রসর হিসেবে পরিচিত সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও প্রেসিডেন্ট থাকাকালে এমন করেননি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকেরা ৪ নভেম্বর দিনভর মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও এসব তথ্য শেয়ার করার প্রয়াস চালান। ৩ নভেম্বর মঙ্গলবারের নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন বলে পোস্ট করতে থাকেন। ব্যালট গণনা চলাকালে তাঁর পোস্টগুলোর হাজার হাজার শেয়ার হতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের নানা মহল থেকে এ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের নিজস্ব নিয়মনীতিতে চলে। আইন অনুযায়ী তাদের ওপর মার্কিন সরকার কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে না।

নির্বাচন পরবর্তী ট্রাম্পের তৎপরতার কারণে ডেমোক্রেটিক দলের আইনপ্রণেতা ও উদারনৈতিক মহল সামাজিক যোগাযোগের এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট বন্ধের আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ডেভিড সিসিলিন এক টুইট বার্তায় বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মিথ্যা ছড়ানো মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের সব ভোট গণনা না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন অ্যাকাউন্টগুলো স্থগিত রাখা দরকার।

ট্রাম্প হ্যাশ ট্যাগ #স্টিলদ্যভোট ও #ভোটারফ্রড নামের পোস্টে তিন লাখের বেশি মানুষ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্ত হয়। তাঁর পোস্টগুলো ফেসবুকে ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন তাঁর সমর্থকেরা। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ফেসবুক ও টুইটার এ নিয়ে পদক্ষেপ নেয়। প্রতিষ্ঠান দুটি ট্রাম্পের কোনো পোস্ট নিয়ে সন্দেহ হলে সঙ্গে একটি সতর্কবার্তা যুক্ত করে দিচ্ছিল। ৪ নভেম্বর ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের বেপরোয়া আচরণে আবার এ নিয়ে কড়াকড়ি বেড়েছে।

৪ নভেম্বর ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিবের পোস্ট নিয়েও প্রচুর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাঁরা নির্বাচনে জয়ের দাবি করে পোস্ট দিলে ফেসবুক ও টুইটার সমালোচনার মুখে পড়ে। দ্রুত তাঁরা এমন পোস্টের ওপর কড়াকড়ি আরোপের কথা জানায়।

টুইটারের মুখপাত্র ট্রেনটন কেনেডি বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে বা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে এমন কোনো পোস্ট সম্পর্কে তাঁরা এখন অধিকতর সতর্ক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0