default-image

মিয়ানমার নিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়ার ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। দেশটিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা ও সেনাবাহিনীর দমনপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানানো এবং জান্তার বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ গ্রহণের হুমকি দেওয়ার কথা ছিল এই বিবৃতিতে। তবে কূটনীতিকেরা বলেছেন, এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে। খবর রয়টার্সের।

কূটনীতিকেরা জানান, যুক্তরাজ্য ওই বিবৃতির খসড়া তৈরি করে। গতকাল রাতে বিবৃতিটি চূড়ান্ত করার প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়ার সময় বিবৃতিটিতে সংশোধন আনতে বলে চীন, রাশিয়া, ভারত ও ভিয়েতনাম। বিশেষ করে ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থান ও জান্তার বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকির প্রসঙ্গ দুটি বাদ দিতে বলে এই দেশগুলো।

এমন বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্রের নিজস্ব ও সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে আমরা সব সময় জোরালো কণ্ঠ ও শক্ত পদক্ষেপ আশা করি।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক

কিন্তু এ ধরনের বিবৃতি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী-অস্থায়ী ১৫ সদস্যের সম্মতিক্রমেই গৃহীত হয়ে থাকে।  

সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছেন সু চিসহ তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষস্থানীয় নেতাদের।

বিজ্ঞাপন

সেনাবাহিনীর অভিযোগ, গত নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জালিয়াতি করে ক্ষমতায় এসেছে এনএলডি। তবে নির্বাচনে জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দেশটিতে বর্তমানে জান্তা শাসকদের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ চলছে। এরই মধ্যে সহিংস এ বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ।

এ ঘটনায় নিরাপত্তা পরিষদ গত মাসে এক বিবৃতিতে মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানায়। তবে ওই বিবৃতিতেও চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতার কারণে সেনা–অভ্যুত্থানের নিন্দা জানানো হয়নি।

মিয়ানমার নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ হওয়ার আগে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘এমন বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্রের নিজস্ব ও সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে আমরা সব সময় জোরালো কণ্ঠ ও শক্ত পদক্ষেপ আশা করি।’

মিয়ানমারভিত্তিক একটি পরামর্শক গ্রুপ বলেছে, সেনা–অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে চলমান বিক্ষোভে ৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েক ডজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

বিবৃতির খসড়া দেখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, দেশটির পরিস্থিতির ওপর নিরাপত্তা পরিষদ ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ গ্রহণে পরিষদের প্রস্তুতির কথাও ব্যক্ত করা হয় এতে।

মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে গত শুক্রবার এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের পর ওই খসড়া বিবৃতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস আচরণের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এ ছাড়া উদ্বেগ জানানো হয় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মৌলিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার ঘটনায়।

এর আগে মিয়ানমার নিয়ে জাতিসংঘের একজন স্বাধীন মানবাধিকার তদন্তকারী ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দেশটির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং জান্তাকে লক্ষ্য করে অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানায়।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন