বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার পর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ভক্স নিউজের দেওয়া এক হিসাবে দেখা গেছে, বুশ প্রশাসনের ওই যুদ্ধে প্রায় ছয় ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল দেশটি। ব্যয় তো আর থামেনি, এখনো চলছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই পরিমাণ অর্থ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করলে করোনাভাইরাসে এতটা নাস্তানাবুদ হতে হতো না। সেই সঙ্গে হয়তো কয়েক কোটি মানুষকে উদ্বাস্তু হতে হতো না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ২০০১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ তাদের বাসস্থান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ১৯০০ সালের পর থেকে হিসাব করলে এটাই সবচেয়ে বড় সংখ্যা। তবে এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ব্যতিক্রম ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকেরা বলছেন, বাস্তু থেকে উৎখাত হওয়া মানুষের আসল সংখ্যা হতে পারে প্রায় ছয় কোটি। কারণ, যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, সেগুলোর হিসাব এখানে যুক্ত হয়নি।

পলিটিকোর এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অনেক খাতে অবহেলার ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগে নিজের ঘর সামলানো। এ ক্ষেত্রে নাইন-ইলেভেনের ঘটনাটি শিক্ষামূলক হতে পারে। টুইন টাওয়ারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোর জন্য অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজকর্মে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এখন উচিত ওই একই প্রক্রিয়ায় পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি ঠেকাতে সঠিক ও সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করা। লক্ষ্য হিসেবে শুধু সন্ত্রাসের জায়গা নেবে স্বাস্থ্য। কারণ, করোনাভাইরাস দেখিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন নাগরিকেরা কতটা মারাত্মক ঝুঁকিতে আছেন।

default-image

ইউএসএ টুডেতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ৯/১১–এর পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় ক্ষমতার পুরোটাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস এসে সেই অধ্যায়ের যবনিকা টেনে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত স্বাস্থ্য খাতেও গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগানো। অর্থাৎ মার্কিন নীতিতে সম্পূর্ণ সংস্কার আনা জরুরি।

এ তো গেল ভাইরাসের গল্প। ঘরের শত্রু কিন্তু আরও আছে। আর এর পেছনে খোদ প্রেসিডেন্টের অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। এটি শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি একটি খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তা নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যেসব বিষয় হুমকিস্বরূপ, তার একটি তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকায় বিদেশি শক্তিকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে পরে। বিদেশি হুমকির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদকে। বলা হচ্ছে, বিষয়টি সবচেয়ে ভয়ংকর মার্কিন মুলুকের জন্য এবং দিন দিন অবস্থা আরও সঙিন হচ্ছে।

default-image

এ অবস্থার দায় ট্রাম্প কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। বর্ণবাদ ও বিভক্তিকে পুঁজি করেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানের কাজ জাতিকে একতাবদ্ধ রাখা, সংকটকালে তো এর প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি থাকে। আর সেখানেই ডাহা ফেল ডোনাল্ড ট্রাম্প। কে কালো, কে বাদামি, কে সাদা—এসব নিয়েই তাঁর মাথাব্যথা। আর সেই সঙ্গে একেক দিন একেক কথা তো আছেই। অথচ কিছুদিন আগেই এক কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল মার্কিন মুলুক। কিন্তু বর্ণবাদের হুমকি কমছে না; বরং বাড়ছে। আবার গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে আছে অসংখ্য বন্দুকধারী, যেখানে সেখানে কিছুদিন পরই ঘটছে গোলাগুলির ঘটনা।

অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়েও জোর বিতর্ক উঠেছে। সিএনএন বলছে, অবসরপ্রাপ্ত অনেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাই প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমালোচনা করছেন। অনেকে এ–ও বলছেন যে ট্রাম্প আদতে দেশপ্রেমিকই নন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন ঘর গোছানো নিয়েই ব্যস্ত। দেশটির পক্ষে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আগের মতো করে চালানো কঠিন। কারণ, দেশের ভেতর হুমকি দিনকে দিন বাড়ছে। চীন-রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাই বাগাড়ম্বরই একমাত্র অবলম্বন। ঘর ঠিক না থাকলে কী আর বিশ্বে মোড়লগিরি করা যায়!

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন