শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী কারা এবং কী চায়
আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী বলতে কু-ক্লাক্স-ক্ল্যান (কেকেকে), নব্য নাৎসি, উগ্র ডানপন্থীদের সমর্থক এবং গোঁড়া রক্ষণশীলদের বোঝানো হয়।
‘অ্যান্টি ডেফ্যামেইশন লীগ সেন্টার অন এক্সট্রিমিজম’এর পরিচালক ওরেন সিগ্যালের মতে, আমেরিকায় বসবাসকারী শ্বেতাঙ্গরা বিশ্বাস করে তারা বিশ্বের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী থেকে আগত আমেরিকানদের চাইতে শ্রেষ্ঠ এবং আমেরিকায় কেবল তাদেরই কর্তৃত্ব করা উচিত। এমন ধারণা থেকেই শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী চেতনার উদ্ভব ঘটেছে।
আমেরিকায় ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় থেকেই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের প্রতি আমেরিকানদের আকর্ষণ বেড়েছে। ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি হেইট এক্সট্রিমিজম’এর তথ্যানুযায়ী এ সমর্থন বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতিগত বিদ্বেষ, ঘৃণাজনিত অপরাধের ঘটনা ২০ শতাংশ বেড়েছে।
শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী ধারণার মূল আবেদন হলো শ্বেতাঙ্গ জাতিসত্তা এবং শ্বেতাঙ্গ স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রাখা। এদের মধ্যে একটা স্লোগান কাজ করে, ‘বৈচিত্র্য শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে গণহত্যার সাংকেতিক শব্দ’।
ওরেন সিগ্যাল সিএনএনকে বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর চলমান রাজনৈতিক পরিবেশের সুযোগ নিতে চায়। ভার্জিনিয়ার শারলটসভিলে সমাবেশ এবং অন্যান্য ঘটনা একটা স্বচ্ছ ধারণা দেয় যা আসছে মাসগুলোতে তাদের পরিকল্পনা স্থির করতে সাহায্য করবে।’
বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর দুষ্কর্ম চিহ্নিত করে এমন সংস্থা ‘সাউদার্ন পভার্টি ল সেন্টার’ এর ‘ইন্টিলিজেন্স প্রজেক্ট’এর পরিচালক হেইডি বিরিক সিএনএনকে বলেন, কিছু শ্বেতাঙ্গ কর্তৃত্ববাদী গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূলের পক্ষে ওকালতি করছেন যা তাদের হেইটগ্রুপ ও চরমপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করে। তিনি বলেন, তাদের বিশ্বাস অশ্বেতাঙ্গদের সব নাগরিক অধিকার উপড়ে ফেলা উচিত। সব অধিকার শ্বেতাঙ্গদের, বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের হাতে থাকবে। কারণ এ আন্দোলন সম্পূর্ণরূপে শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের। নারীদের ব্যাপারে এ গোষ্ঠী নেতিবাচক ও পশ্চাদমুখী ধারণায় ভুগছে। তারা ষোড়শ শতাব্দী কিংবা তারও আগেকার সময়ের দৃষ্টি দিয়ে আমেরিকাকে দেখতে চায়।
শ্বেতাঙ্গবাদীদের বিশ্বাস, তারাই কেবল সমাজে সম্মানজনক পদে থাকার যোগ্য। তাই তারা এ ভয়ে ভীত যে তাদের অবস্থান অন্যদের দখলে চলে যেতে পারে।
এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে যে, শ্বেতাঙ্গ কর্তৃত্ববাদীরা ‘কেকেকে’ গোষ্ঠীর প্রতিচ্ছবি বিশেষ। ১৫০ বছর আগে গঠিত এ গোষ্ঠীর বর্তমানে ১৩০টি উপ-গোষ্ঠী রয়েছে। এরা নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী হতে শ্রেষ্ঠতর বলে দাবি করে। এরা লেসবিয়ান, গে এমনকি ইহুদি এবং ক্যাথলিকসহ অন্যান্য ধর্মবিশ্বাসীদের ওপর হামলা চালায়।
তারা বিভিন্ন সংস্কৃতির ধারক অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের বিরোধী। এমনকি তারা অভিবাসীদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও বিশ্বাসকে পছন্দ করে না।