বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি কিউবার গুয়ানতানামো বের কারাগারে রয়েছেন খালিদসহ অন্য আসামিরা। প্রায় ১৫ বছর ধরে সেখানে আছেন তাঁরা। সামরিক ট্রাইব্যুনালে তাঁদের বিচার শুরু হয়েছিল। সবশেষ ২০১৯ সালের শুরুর দিকে তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এই বিচার প্রায় ১৭ মাস ধরে স্থগিত থাকে। এখন এই বিচার আবার শুরু হচ্ছে।

গত রোববার ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক বিমানবাহিনীর কর্নেল ম্যাথিউ ম্যাককল এ মামলার বিচারকাজ ধীরে শুরু করার ইঙ্গিত দেন। শুরুর দিনের শুনানিতে বিচারকের যোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। শুনানিতে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা অংশ নেবেন। তাঁরা বিচারককে প্রশ্ন করারও সুযোগ পাবেন। পরে ১৭ মাস আগে বিচারকাজ যেখানে স্থগিত হয়েছিল, সেখান থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

‘নাইন-ইলেভেন’ (৯/১১) নামে পরিচিত এ হামলায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। এ হামলার জেরে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে নামে যুক্তরাষ্ট্র। আল-কায়েদার জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ২০০১ সালে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায়। হামলায় ক্ষমতাচ্যুত হয় তালেবান। পরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী পাকিস্তানের গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। অন্যদিকে, প্রায় ২০ বছর ধরে আফগানে যুদ্ধ চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসের দীর্ঘতম এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানে। অবশ্য তার আগেই গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা ফের তালেবানের হাতে যায়।

default-image

সন্ত্রাসের মূল উৎপাটনের লক্ষ্যে আফগানিস্তান ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসবিরোধী এসব অভিযানে খালিদ ছাড়াও আম্মার আল-বালুচি, ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, রামজি বিন আল-শিভ ও মুস্তাফা আল-হাওসাই গ্রেপ্তার হন। ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

খালিদকে যুক্তরাষ্ট্রে আল-কায়েদার সন্ত্রাসী হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর মা–বাবা পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের অধিবাসী। পরে তাঁরা কুয়েতে যান। সেখানেই খালিদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। কিশোর বয়সে তিনি মুসলিম ব্রাদার হুডে যোগ দেন। তারপর যুক্তরাষ্ট্রে যান পড়াশোনা করতে। ১৯৮৬ সালে তিনি নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনিক্যাল স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক করেন। তিনি ২০০৩ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর সিআইয়ের হেফাজতে তিনি ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হন। ২০০৬ সালে তাঁকে গুয়ানতানামো বে কারাগারে নেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন