মার্কিন বিমানবাহী রণতরি জেরাল্ড ফোর্ডকে শুধু কি আগুনের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোতায়েন মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে গ্রিসের একটি দ্বীপের বন্দরে নেওয়া হয়েছে। রণতরির লন্ড্রি এলাকায় আগুন লাগার কারণে সেটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন তরফ থেকে জানানো হয়েছে। তবে জাহাজটি আরও গভীর এবং কাঠামোগত সমস্যার মুখে পড়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনী সোমবার জানিয়েছে, লোহিত সাগরে অভিযানের পর ‘রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের’ জন্য রণতরিটি ক্রিট দ্বীপের সুদা বে নৌ–সহায়তা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে জাহাজটির প্রধান লন্ড্রি এলাকায় আগুন লেগেছিল। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিতে হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অগ্নিকাণ্ড যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে ৬০০-এর বেশি নাবিক তাঁদের ঘুমানোর জায়গা থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের টেস্টিং অফিসের নতুন এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, এই রণতরি ঘিরে বেশ গুরুতর থেকে সাধারণ—দুই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে জাহাজটির যুদ্ধকালীন পরীক্ষা শুরুর পর থেকেই অনেক সমস্যা সামনে আসতে থাকে।
প্রতিবেদনে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, রণতরিটির ‘কার্যকারিতা’ বা এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার মতো বর্তমানে যথেষ্ট তথ্য নেই। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের ব্যবস্থা, রাডার, শত্রুর হামলায় আক্রান্ত হলেও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এবং অস্ত্রশস্ত্র হোল্ড থেকে ফ্লাইডেকে নেওয়ার লিফট ব্যবস্থা।
পেন্টাগনের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, জাহাজটি হস্তান্তরের প্রায় এক দশক পরও বাস্তবসম্মত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এর ‘কার্যকর সক্ষমতা’ নির্ধারণ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো হাতে নেই। এর উন্নত বিমান উড্ডয়ন প্রযুক্তি, রাডার ও অস্ত্রবাহী লিফটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমগুলো এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে; বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সময় এগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রণতরিটি দীর্ঘ মেয়াদে মোতায়েন এই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে মোতায়েন করা এই জাহাজ প্রায় ৯ মাস সমুদ্রে কাটিয়েছে। এ ধরনের রণতরি সাধারণত সাত মাস মোতায়েন করা হয়ে থাকে। এ সময়ে রণতরিটি ক্যারিবীয় অঞ্চল (ভেনেজুয়েলায় অভিযান) থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলী লারিজানির মতো শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন।
জবাবে তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা নিশানা করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। বিশ্ববাজার অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে এবং উড়োজাহাজ চলাচলব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।