ট্রাম্পের মতো ৪৫ বছর আগে হিলটন হোটেলে হামলা হয়েছিল আরেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রোনাল্ড রিগ্যানছবি: হোয়াইট হাউস ও রোনাল্ড রিগ্যান প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি অ্যান্ড মিউজিয়ামের ওয়েবসাইট থেকে

দুটি পৃথক ঘটনা। তবে ঘটনাস্থল একই। ওয়াশিংটনের অভিজাত হিলটন হোটেল। দুটি ঘটনাতেই যুক্তরাষ্ট্রের দুজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের ওপর সশস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয়। প্রাণে বেঁচে যান তাঁরা। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে ব্যবধান ৪৫ বছরের কিছু বেশি।

রোনাল্ড রিগ্যান

প্রথম ঘটনাটি ঘটে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সঙ্গে। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। আর সর্বশেষটি ঘটল বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। ২০২৫ সালে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে এসেছেন তিনি।

সময়টা ১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ। একটি অনুষ্ঠান শেষে হিলটন হোটেল থেকে বেরিয়ে আসছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। গাড়িতে উঠতে যাবেন, হঠাৎ গুলি ছোড়েন জন হিঙ্কলি জুনিয়র নামের একজন।

আরও পড়ুন

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন প্রেসিডেন্ট রিগ্যান। ফুসফুসে গুলি লেগে মারাত্মকভাবে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয় তাঁর। রোনাল্ড রিগ্যান প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি অ্যান্ড মিউজিয়ামের ওয়েবসাইটে বলা আছে, এ ঘটনায় জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ১২ দিন ভর্তি ছিলেন প্রেসিডেন্ট। এরপর হোয়াইট হাউসে ফেরেন।

রিগ্যানের ওপর হামলার ঘটনায় আহত হন তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি জেমস ব্র্যাডি, সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তা টিমোথি ম্যাকার্থি এবং পুলিশ কর্মকর্তা থমাস ডেলাহ্যানটি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

সর্বশেষ ঘটনাটি ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার রাতের। হিলটন হোটেলে আয়োজন করা হয়েছিল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ। তাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অংশ নেন।

এ আয়োজনে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আরও ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্টসহ মার্কিন মন্ত্রিসভার প্রায় সবাই। ছিলেন নামীদামি ২ হাজার ৬০০ অতিথি।

আরও পড়ুন

ট্রাম্প–মেলানিয়া তখন মঞ্চে। হঠাৎ ছন্দপতন। রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি আয়োজনে বিকট শব্দ। হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে অতিথিরা টেবিলের নিচে লুকান। দ্রুতই মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় প্রেসিডেন্ট আর ফার্স্ট লেডিকে। পরে অতিথিদেরও।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করা এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, সেখানে সাত থেকে আটটি গুলির শব্দ শুনেছেন তিনি।

এ ঘটনায় অক্ষত আছেন ট্রাম্প–মেলানিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রীসহ অতিথিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি শটগান থেকে সিক্রেট সার্ভিসের এক সদস্যের দিকে গুলি ছোড়েন। সিক্রেট সার্ভিসের ওই সদস্য সুরক্ষা পোশাক পরা ছিলেন। গুলিটি সুরক্ষা পোশাকে আঘাত করায় তাঁর ক্ষতি হয়নি।

সন্দেহভাজন হামলাকারীকে হেফাজতে নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা ৩১ বছর বয়সের একজন পুরুষ বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন