ট্রাম্পকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ট্রল বা হাসি-রসিকতার কমতি নেই। কিন্তু ব্যক্তি ট্রাম্পের আবেদন ফেলনা নয়। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে অনেকে তাঁর রাজনৈতিক মৃত্যুর কথা লিখে ফেলেছিলেন। নিউইয়র্কের বাংলাভাষীদের একটি পত্রিকা সে সময় লিখেছিল, ‘ট্রাম্পের দম্ভের সমাপ্তি ৬ জানুয়ারি’। এ রকম সবাইকে হতচকিত করে ট্রাম্পের উত্থান ঘটছে আবার। মানুষ কেন তাঁকে পছন্দ করে, সে রহস্য খুঁজতে বহু মনোবিজ্ঞানী গবেষণা চালাচ্ছেন।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন তাদের ‘সাইকনেট’-এ এই রকম এক গবেষণার তথ্য প্রকাশ করেছিল কিছুদিন আগে। গবেষণাটি করেন কেইলা জর্ডান ও জেমস পেন্নিবেকার। ওই গবেষণায় দেখা যায়, ট্রাম্পের যেসব মন্তব্য বা মতামতে বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি ছিল, সেগুলোই মার্কিন জনসমাজের একাংশে তাঁর আবেদন বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের মনোজগতের বিস্ময়কর একটি দিক এটা। তাঁরা ট্রাম্পের সোজাসাপটা, সরাসরি কথাবার্তা পছন্দ করেন।

উল্লিখিত গবেষকেরা ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন ও তাঁর বিভিন্ন বক্তৃতার কম্পিউটারভিত্তিক বিশ্লেষণ করেছেন। তাতে দেখা গেছে, হিলারির তুলনায় ট্রাম্পের স্কোর অর্ধেক। এমনকি আগের পাঁচ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব প্রার্থীর চেয়ে তাঁর ‘বিশ্লেষণী ক্ষমতা’ কম। কিন্তু অনেক জটিল বিষয়ে সরাসরি ও সহজবোধ্য মন্তব্য তাঁকে ভোটারদের প্রিয় করেছে। বুদ্ধিজীবীরা সেসবে হাসাহাসি বা নিন্দা করলেও সাধারণ মানুষ তাদের কথায় প্রভাবিত হয়নি। ট্রাম্পকে ‘কাছের লোক’ ভেবেছে তারা। এর কারণ হয়তো এটাও—ট্রাম্প প্রথাগত রাজনীতিবিদ নন।

‘সাধারণ’দের কাছে ‘রাজনীতিবিদে’রা আস্থা খোয়াচ্ছেন বিশ্বজুড়ে। যুক্তরাষ্ট্রেও এটা ঘটছে। এখানে ট্রাম্পকে অনেকের ভালো লাগে তাঁর সাদাপ্রেমের কারণেও। শ্বেতাঙ্গ একচেটিয়াত্বের অতীত সোনালি দিনের জন্য আকুলতা দেখান তিনি। কালো প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে একদা প্রশ্ন তুলেছিলেন ট্রাম্প। এভাবে তিনি নিয়মিত শ্বেতাঙ্গদের ভেতর আপাত ঘুমিয়ে থাকা বর্ণবাদ উসকে দেন। একই কৌশল নেন অভিবাসী প্রসঙ্গে। সাদা নিম্নবিত্তের অর্থনৈতিক হা–হুতাশের কল্পিত কারণ হিসেবে ইঙ্গিত করেন ‘অভিবাসীদের’ দিকে। অ-শ্বেতাঙ্গ ‘অপরদের’ নিয়ে ভীতি ছড়ানো, তাদের অবজ্ঞা, তাদের প্রতি অসহিষ্ণুতা ট্রাম্পবাদের গুরুত্বপূর্ণ তিন দিক।

বৈধ-অবৈধ মিলে যুক্তরাষ্ট্রে ‘অভিবাসী’র সংখ্যা এখন প্রায় পাঁচ কোটি। গত ৫০ বছরে এটা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। কেবল বাইডেনের গত ২২ মাসে অভিবাসী বেড়েছে প্রায় ২৯ লাখ। রকেটগতির বৃদ্ধি বলা যায়। প্রতি সাতজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের একজন এখন অভিবাসী বা তাঁদের বংশধর। স্থানীয় সাদাদের কারও কারও কাছে এসব পরিসংখ্যান ‘উদ্বেগজনক’। কারণ, তাদের বোঝানো হয়—অভিবাসীদের কাছে তারা একসময় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব হারাতে পারে। অভিবাসীদের ভেতর ‘আমেরিকার শত্রু’ও আছে।

ট্রাম্প সচরাচর কোনো আদর্শ ফেরি করেন না—তাঁর আগ্রহ জনতার আবেগের দিকে। এসব আবেগ ও ভীতির সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনীতি ও জীবনযাপনে ব্যয় বাড়ার চাপ। ইউক্রেনের মানুষের জন্য আমরা কেন কষ্ট করব—এমন প্রশ্ন মধ্যবিত্ত আমেরিকানদের কাছে রিপাবলিকান ট্রাম্পের বড় অস্ত্র হতে পারে। পুতিনের জন্যও সেটা উৎসাহব্যঞ্জক হবে।

যদিও আমেরিকাকে লজ্জায় ফেলেছিলেন তিনি

ট্রাম্পকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভীতিও আছে। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারের পর তিনি ‘পুরুষালি’ ভাব নিয়ে সমর্থকদের দাঙ্গায় উসকে দিয়েছিলেন। হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনের রায় পাল্টানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর সেই অপচেষ্টার পার্শ্বফল হিসেবে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে ঢুকে পড়ে ট্রাম্পপন্থীরা। তাদের মধ্যে আটক হওয়া ব্যক্তিদের ৮৮ শতাংশ ছিল পুরুষ এবং ৬৭ শতাংশ ছিল ৩৫ বছরের ওপরের বয়সী। তথ্য হিসেবে এসব ট্রাম্প অনুরাগীদের ধরন বুঝতে খানিক সাহায্য করে।

বিশ্বজুড়ে টিভিতে মানুষ এ রকম ট্রাম্পপ্রেমীদের অনাচার দেখেছে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ওটা ছিল লজ্জার দিন। সে রকম পরিস্থিতির মুখে তারা আবারও পড়তে চাইবে কি না, সে প্রশ্ন সামনে আসছে আবার। বিষাক্ত পুরুষালি ভঙ্গি বজায় রাখতে গিয়ে ট্রাম্পবাদ করোনার সময় মাস্ক পরতেও আপত্তি ছড়িয়েছিল। ট্রাম্পের আগামী নির্বাচনী সম্ভাবনায় নেতিবাচক এ রকম সব স্মৃতি বাধা হয়ে থাকবে। অতীতের নানান ‘সীমা লঙ্ঘনের শাস্তি’ হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন টুইটার ও ফেসবুকে নিষেধাজ্ঞায় থাকতে হয়েছে।

এসব নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে খুব বেশি নিঃস্ব করতে পেরেছে বলে মনে হয় না। হয়তো সে কারণে টুইটার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও ট্রাম্প সেখানে আর ফিরতে চাইছেন না। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে আগামী জানুয়ারিতে তিনি ফেসবুকে ফিরবেন কি না, সেটাও এখন অনিশ্চিত। তবে নিষেধাজ্ঞার আগে দুই জায়গাতেই তাঁর ‘অনুসারী’ ছিল বিপুল।

তবে মার্কিনিদের রাজনৈতিক স্মৃতিশক্তি দুর্বল বলে কথিত আছে। তারই যেন নমুনা মিলল এনবিসির গত ৬ জুনের এক জরিপে। ৫৫ ভাগ নাগরিক মনে করছে, ক্যাপিটল হিল জবরদখল চেষ্টার জন্য ট্রাম্পকে ‘পুরো দোষারোপ করা যায় না’। তাঁর দায় বড়জোর ‘আংশিক’। কেবল ৪৫ শতাংশ নাগরিক মনে করছেন, ওই ঘটনার পেছনে দায়দায়িত্ব মূলত ট্রাম্পের।

স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, টিভিতে বিশ্ববাসী যা–ই দেখুক, মার্কিন সমাজে ব্যক্তি ট্রাম্পের প্রতি সহানুভূতির একটা নীরব স্রোত আছে। অনেক ট্রাম্প সমর্থক প্রিয় নেতার এ কথা এখনো বিশ্বাস করে, ২০২০ সালে তাদের বিজয় ‘চুরি’ হয়েছে। বিপুল জনতাকে যে তিনি অন্ধ আনুগত্যের বন্ধনে বাঁধতে পেরেছেন—এ কৃতিত্ব তাঁকে না দিয়ে পারা যায় না। তাঁর মধ্যে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের চুম্বকত্ব আছে।

এ বছর মাঝামাঝি যেসব মতামত জরিপ চালানো হয়েছিল, তাতে প্রেসিডেন্ট পদে তাঁকে সমর্থনের সম্ভাবনা ৫০ ভাগের ওপরে না উঠলেও ৪০ ভাগের নিচে নামেনি (১১ জুন, সিএনএন)। তবে খোদ নিজ দলে মনোনয়নের লড়াইয়ে তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীও আছে বলেই মনে হচ্ছে।

রিপাবলিকানদের মনোনয়ন পাওয়া ট্রাম্পের জন্য সহজ হবে না

ট্রাম্পকে নিয়ে বিশেষভাবে মুশকিলে আছে রিপাবলিকান দল। তাঁর ভাবমূর্তি দলের জন্য একধরনের বোঝাতুল্য। বিশেষ করে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সখ্য যুক্তরাষ্ট্রে এ মুহূর্তে আদরণীয় কিছু হবে বলে মনে হয় না। অন্তত ইউক্রেন যুদ্ধের পর। কিন্তু রিপাবলিকানদের পক্ষেÿট্রাম্পকে ছুড়ে ফেলা সহজ নয়, সম্ভবও নয় হয়তো। কারণ, দলের সমর্থক ভিত্তিতে তাঁর প্রভাব আছে। তাঁর নিজের একটা ভোটব্যাংক আছে।

ট্রাম্প ইতিমধ্যে দাবি করেছেন, নভেম্বরে শেষ হওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি যাঁদের সমর্থন দিয়েছেন, সেসব রিপাবলিকান সবাই জিতেছেন। কথাটি সত্য নয়। সবাই জেতেননি, কেউ কেউ জিতেছেন। তবে তাঁর সমর্থক রিপাবলিকানদের মধ্যে যাঁরা জেতেননি, তাঁরাও ভোট টেনেছেন অনেক। যেমন পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্প সমর্থিত মেহমেত ওজ হারলেও ৪৭ শতাংশ ভোট পান। জর্জিয়ায় ট্রাম্পের পছন্দের হারশেল ওয়াকার ৪৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্তত একটা বার্তা এই যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এবং দেশটির ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের আবেদন জারি আছে। তবে সেটা রিপাবলিকান দল থেকে আবারও প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। সেখানে প্রভাবশালী কোনো কোনো নেতা তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবেও আছেন। তাঁর প্রার্থিতা কঠিন করে তুলতে পারেন রন ডিস্যান্টিসের মতো অনেক রিপাবলিকান। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবারও ফ্লোরিডায় গভর্নর হলেন রন ডিস্যান্টিস। ট্রাম্পও এই ফ্লোরিডার মানুষ। সেখান থেকেই তিনি নতুন করে নির্বাচনী যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন।

তবে ফ্লোরিডার এই দুই রিপাবলিকান তারকার মধ্যে বয়সের ব্যবধান ব্যাপক হলেও (৭৬/৪৪)—আদর্শের ফারাক সামান্য। আবার রুপার্ট মারডকের মতো রক্ষণশীল মিডিয়া-সম্রাট রনকে মদদ দিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। ইতিমধ্যে ট্রাম্পকে নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নিউইয়র্ক পোস্ট নেতিবাচক রিপোর্ট করতে শুরু করেছে। এসবে ট্রাম্পের জন্য বাজে ইঙ্গিত আছে। আগামী মাসগুলোতে হয়তো রন ডিস্যান্টিসের মতো ট্রাম্পের আরও প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম বের হবে রিপাবলিকানদের মধ্য থেকে। কিন্তু ট্রাম্প নিজে চ্যালেঞ্জ হিসেবে আছেন ডেমোক্র্যাটদের জন্যও।

ট্রাম্প না থাকলেও ট্রাম্পবাদ থাকছে

সদ্য শেষ হওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা অপ্রত্যাশিতভাবে ভূমিধস পরাজয় এড়িয়েছেন। তবে ভোটের হিসাবে স্পষ্ট দেখাচ্ছে, তারা খাদের অতি কিনারে আছে। ২৪ মাস আগে, ২০২০ সালের নভেম্বরে বাইডেন যে মাত্র ৫১ দশমিক ৩ বনাম ৪৬ দশমিক ৯ ব্যবধানে জিতেছিলেন, এ অবস্থা থেকে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান ভালো হয়নি। বাইডেন সে সময় ২৫ অঙ্গরাজ্যে এগিয়ে ছিলেন। ট্রাম্পও সমসংখ্যক রাজ্যে এগোনো ছিলেন। একই ধরনের হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেল সদ্য শেষ হওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে। দেশটির সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা অতি সামান্য প্রাধান্য ধরে রাখলেও কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘প্রতিনিধি পরিষদে’ সেটা হারিয়েছে। সেখানে রিপাবলিকানদের গরিষ্ঠতা বাইডেনকে পুরো মেয়াদে চাপে রাখবে। এতে পরোক্ষ লাভবান হতে থাকবেন ট্রাম্প। তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন তদন্ত এগিয়ে নেওয়া শাসক ডেমোক্র্যাটদের জন্য এখন কঠিন হলো।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প যেভাবে মাঠে ছিলেন, তাতে স্পষ্ট ২০২৪ সালের জন্য তিনি গুছিয়ে নামতে চলেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে নিম্নকক্ষের স্পিকার হিসেবে কেভিন ম্যাককার্থির বাছাইয়েও দলের ভেতর তাঁর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখল। ট্রাম্প এভাবে যখন ধাপে ধাপে তৃতীয় দফা যুদ্ধের জন্য এগোচ্ছেন, ঠিক সে সময় ডেমোক্র্যাটদের দলীয় পরিসরের অভ্যন্তরীণ সংকটটি বেশ জটিল। গত নির্বাচনে বাইডেন জিতলেও তাঁর ভোটারদের মধ্যে উদারনৈতিক চিন্তার প্রতি সমর্থন পাওয়া গেছে মাত্র ৪২ ভাগ এবং ৫৮ ভাগ পাওয়া গেছে রক্ষণশীল বা মধ্যপন্থী মনোভাবাপন্ন (সিএনএন, পূর্বোক্ত)।

অথচ বাইডেনসহ ডেমোক্র্যাট নীতিনির্ধারকদের ‘বামঘেঁষা’ বদনাম আছে। এ বদনামের সত্য-মিথ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এটা স্পষ্ট দলটির নেতৃত্ব ও সমর্থকগোষ্ঠী এক ধাঁচের নয়। অথচ রিপাবলিকান দলের সমর্থকদের বড় অংশের মধ্যপন্থার চেয়ে ডানপন্থার দিকে ঝোঁক বেশি। দুই দলের এ মেঠো চিত্র যোগ-বিয়োগ করে যা দাঁড়ায়—যুক্তরাষ্ট্রের জনমতের জমিনে উদারনৈতিক আদর্শ চালকের আসনে নেই। ট্রাম্প এবং ট্রাম্পবাদের জন্য সম্ভাবনার জায়গাটা ঠিক এখানে।

এই যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পবাদের তৈরি। এই জমিনে তারাই কেবল বাড়তি আয়ু পেতে পারে। সুতরাং ২০২৪ সালের নির্বাচনী যুদ্ধে ট্রাম্প না থাকলেও ট্রাম্পবাদ থাকছে। ট্রাম্পহীন ট্রাম্পবাদ প্রতিপক্ষ হিসেবে বেশি শক্তিশালী। ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে নতুন কোনো তারকাকে নিয়ে ট্রাম্পবাদের অগ্রযাত্রা সহজ হতে পারে। এ বিপদ যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটদের নয়—পুরো বিশ্বের। দেশে দেশে দেখা যাচ্ছে নিজস্ব চেহারার অনেক ‘ট্রাম্প’। অর্থনৈতিক মন্দা তাদের ‘সুযোগ’ করে দিয়েছে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তকে আরেক দফা কাছে টানার।

আলতাফ পারভেজ ইতিহাস বিষয়ে গবেষক