নির্বাচনের পর মঙ্গলবার রাতে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো বাসভবনে হওয়া পার্টিতে ব্যাপক বিজয়ের দাবি করেন ট্রাম্প। যদিও গণমাধ্যমের সামনে সব সময় উচ্চকিত ট্রাম্প কিছুটা ম্রিয়মাণ ছিলেন। এর কারণ হয়তো এটাই, যে বিজয়ের দাবি তিনি করেছেন, বাস্তবতার সঙ্গে তার অমিল রয়েছে। যেসব বড় বড় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমেছিলেন ট্রাম্প, তাঁদের অনেকেই সুবিধাজনক অবস্থায় নেই।

পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মেহমেত ওজ সিনেটের পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জন ফিটারম্যানের কাছে হেরেছেন। পেনসিলভানিয়ার এ হার সিনেটে রিপাবলিকানদের কাঙ্ক্ষিত শক্ত অবস্থানকে নড়বড়ে করে দিয়েছে খানিকটা। আবার গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির জোস সাপিরোর কাছে হেরেছে রিপাবলিকান প্রার্থী ডাগ মাস্ট্রিয়ানো। অ্যারিজোনায় ট্রাম্প অনুসারী ক্যারি লেক ও ব্লেক মাস্টার্স পিছিয়ে আছেন। তবে এত হতাশার মধ্যে কিছুটা আশা জাগিয়েছেন ওহাইওর সিনেটর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী জে ডি ভেনস। এখানে তিনি জিতেছেন।

এবারের নির্বাচনে এই ফলাফল ট্রাম্পের ‘সেলিব্রেটি’ ভাবধারার ক্ষেত্রে একটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সেন্টার অন ইউএস পলিটিকসের সহপরিচালক জুলি নরম্যান। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, কিছু বিজয়ের ঘটনা আছে। যেমন ওহাইওর জেডি ভ্যান্স। কিন্তু এর বাইরে অনেক ট্রাম্প-অনুসারী হয় হেরেছেন নয়তো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে আছেন এখন, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে তার যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে ২০২৪ সালে। সেই নির্বাচনে আবারও রিপাবলিকান পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে চান সাবেক ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই নির্বাচনে যেন দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে না শামিল হন, সে জন্য দলের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী রন ডিস্যান্টিসকে রীতিমতো হুমকিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর জন্য আজ আবার খারাপ খবর হলো, ফ্লোরিডার গভর্নর পদে রিপাবলিকান পার্টির এই প্রার্থী বিপুলভাবে জয়ী হয়েছেন।

এর আগে ট্রাম্প সোমবার তাঁর বিমানের সঙ্গী সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্যান্টিস যদি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেন, তবে নিজের বড় ক্ষতি করবেন। আমি মনে করি না যে এটা দলের জন্য ভালো কিছু হবে।’

ট্রাম্প এভাবে হুমকি দিলেও ডিস্যান্টিসের বিপুল বিজয় ট্রাম্পকে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থিতার দৌড়ে জোর লড়াইয়ের মুখে ফেলবে বলে মনে করেন জুলি নরম্যান।