নিউইয়র্ক নগরের মেয়র মামদানির বাড়ির সামনে কট্টরপন্থীদের বিক্ষোভ, বিস্ফোরক নিক্ষেপ
নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে একটি বিস্ফোরক (ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি) নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনের সামনে গত শনিবার এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ঘটনার দিন অধিকারকর্মী জেক ল্যাংয়ের নেতৃত্বে একদল কট্টর ডানপন্থী ও মুসলিমবিদ্বেষী বিক্ষোভকারী মামদানির সরকারি বাসভবনের সামনে জড়ো হয়। এ সময় আরেক দল পাল্টা বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের সঙ্গে কট্টর ডানপন্থী বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেছেন, প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীর ছুড়ে মারা বস্তুটি কোনো ভুয়া জিনিস বা ধোঁয়া তৈরি করার বোমা ছিল না। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি হাতে তৈরি করা আইইডি, যা মারাত্মক জখম এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারত।
জেসিকা টিশ আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া সেই বিস্ফোরক এবং ঘটনাস্থলের পাশ থেকে পাওয়া বিস্ফোরকের মতো আরও একটি বস্তু নিয়ে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, এমির বালাত ও ইব্রাহিম কায়ুমি নামের দুই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্তে এফবিআইও যোগ দিয়েছে।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, এমির বালাত পাল্টা বিক্ষোভকারীদের একটি দলের সঙ্গে ছিলেন। সেখান থেকেই তিনি পুলিশের ব্যারিকেডের দিকে ওই বিস্ফোরকটি ছুড়ে মারেন। তবে সেটি বিস্ফোরিত হয়নি।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বিস্ফোরকটি নাট-বল্টু ও স্ক্রু দিয়ে ঠাসা ছিল। এতে তথাকথিত ‘হবি ফিউজ’ বা দেশি সলতে ব্যবহার করা হয়েছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় এমির বালাত রাস্তায় আরও একটি বিস্ফোরক ফেলে যান।
‘কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়’
গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি জেক ল্যাংয়ের বিক্ষোভের নিন্দা জানান। বিক্ষোভ-পরবর্তী সহিংসতাকে তিনি আরও বেশি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। মামদানি বলেন, ‘বিক্ষোভে সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’
মামদানি আরও বলেন, ‘বিস্ফোরক ব্যবহার করে অন্যকে আঘাত করার চেষ্টা কেবল অপরাধই নয়, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আমাদের আদর্শের পরিপন্থী।’
জেক ল্যাং একজন কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক অধিকার কর্মী। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তবে গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ক্ষমা করে দেন। নিউইয়র্ক নগরের কথিত ‘ইসলামিকরণ’-এর বিরোধিতা করে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন তিনি।