নাসার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রহ হিসেবে এখন পর্যন্ত ডব্লিউএএসপি–৯৬বিকে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে এ টেলিস্কোপ দিয়ে। এ থেকে দূরবর্তী পৃথিবীসদৃশ গ্রহটির বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করার জন্য এ টেলিস্কোপের অভূতপূর্ব সক্ষমতা লক্ষ করা গেল। আমাদের এই আকাশগঙ্গার ছায়াপথে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি গ্রহ শনাক্ত হয়েছে।

নাসার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দক্ষিণ-আকাশের নক্ষত্রমণ্ডল ফিনিক্সে অবস্থিত এই গ্রহটির সঙ্গে আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোর সরাসরি কোনো সাদৃশ্য নেই। এর ভর আমাদের বৃহস্পতি গ্রহের অর্ধেকেরও কম এবং ব্যাস ১ দশমিক ২ গুণ বেশি। এটি আমাদের সৌরজগতের যেকোনো গ্রহের চেয়ে বেশি স্ফীত। এখনকার তাপমাত্রা ৫৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি, যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, ডব্লিউএএসপি–৯৬বি তার সূর্যের মতো নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর প্রতি সাড়ে তিন দিনের মতো সময়ে নক্ষত্রকে আবর্তন সম্পন্ন করে। এই গ্রহের বিশাল আকার, সংক্ষিপ্ত আবর্তনকাল, স্ফীত বায়ুমণ্ডল ও দূষিত আলোর বাধা না থাকায় এর বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ করার জন্য আদর্শ বলে বিবেচিত হয়েছে।

এর আগে হাবল টেলিস্কোপ ব্যবহার করে দুই দশক ধরে অসংখ্য গ্রহের বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে পানির পরিষ্কার অস্তিত্বের কথাও জানানো হয়েছে। তবে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে আরও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ পাওয়া সম্ভব হওয়ায় পৃথিবীর বাইরে সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে মনে করছে নাসা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন