এর মধ্যে জর্জিয়ায় কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় সেখানে ৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফা ভোট হবে। অপর দিকে, স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত অ্যারিজোনা ও নেভাদা অঙ্গরাজ্যে কয়েক লাখ ভোট গণনা বাকি ছিল।

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে রয়েছেন রিপাবলিকানরা। প্রতিনিধি পরিষদে মোট আসন ৪৩৫টি। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে ২১১টি আসন। ডেমোক্র্যাটদের ১৯৭টি। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ২১৮টি আসন। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনকে কংগ্রেসে বিভিন্ন আইন পাসে বাধা দিতে পারবেন।

প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান পার্টির নেতা কেভিন ম্যাকার্থি এরই মধ্যে জোরেশোরে ঘোষণা দিয়েছেন, প্রতিনিধি পরিষদে জয় পেলে তিনি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রার্থী হবেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদে জয়ের আশা এখনো ছাড়ছেন না বাইডেন। গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এমন কথাই বলেছেন তিনি।

এ কথা সত্যি যে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপুল জয় বা ‘লাল ঢেউ’ থামিয়ে দিতে পেরেছেন বাইডেনের ডেমোক্র্যাটরা। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মূল্যস্ফীতি ও অপরাধের হার বাড়ার কারণে রিপাবলিকানদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল বাইডেনকে। অপর দিকে, বাইডেন এই নির্বাচনকে বর্ণনা করেছেন গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবে। গর্ভপাত আইনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি রিপাবলিকানদের ‘কট্টরপন্থী’ আখ্যা দিয়েছেন।

যেসব ভোট গণনা বাকি

অ্যারিজোনা ও নেভাদার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভোট গণনা শেষ হতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। কারণ, ডাকযোগে দেওয়া ভোট এখনো আসছে। গত বৃহস্পতিবার অ্যারিজোনার মারিকোপা কাউন্টি বোর্ড অব সুপারভাইজারের চেয়ারম্যান বিল গেটস বলেন, এখনো ৪ লাখের বেশি ভোট গণনা বাকি রয়েছে। তাঁরা শনি ও রোববারও ভোট গণনা চালিয়ে যাবেন। প্রতিদিন তাঁদের ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে।

এ ছাড়া মারিকোপায় নির্বাচনের দিন ভোট গণনাযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ফলে ১৭ হাজার ভোট আলাদাভাবে গুনতে হচ্ছে। আর নেভাদায় আইন অনুযায়ী স্থানীয় সময় শনিবার পর্যন্ত ডাকযোগে দেওয়া ভোট আসবে। ফলে সে সময় পর্যন্ত ভোট গণনা চলবে।

চাপে ট্রাম্প

রিপাবলিকান পার্টির নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–সমর্থিত অনেক প্রার্থী নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এতে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি অনেকটা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাঁরা বলছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের আশানুরূপ ফল না পাওয়ার কারণ সাবেক প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড।

ট্রাম্পকে নিয়ে এমন নেতিবাচক মনোভাব ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিসের জন্য বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বড় জয় পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে অঙ্গরাজ্যটিতে গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। তবে একাধিকবার এমন আভাস দিয়েছেন তিনি। আগামী মঙ্গলবার ফ্লোরিডা ক্লাবে এ বিষয়ে ‘বিশেষ ঘোষণা’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।