এপস্টিন কাণ্ডে কংগ্রেসের তদন্তে হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্য, ছবি ফাঁস
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী প্রয়াত জেফরি এপস্টিনের অপরাধ নিয়ে তদন্তে সাক্ষ্য দিতে হাজির হয়েছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তিনি এপস্টিনের অপরাধ নিয়ে তদন্ত করা প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির সামনে হাজির হন।
তবে এ নিয়ে চরম নাটকীয় পরিস্থিতি দেখা দেয়। রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যে অংশ নেওয়া হিলারির ছবি ফাঁস হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য থমকে যায় সাক্ষ্যগ্রহণ। পরে তা আবারও শুরু হয়।
হিলারি সম্প্রতি তাঁর স্বামী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনসহ প্রতিনিধি পরিষদের ‘হাউস ওভারসাইট কমিটির’ কাছে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কমিটির সামনে হাজির হন হিলারি। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
সাক্ষ্য দেওয়ার দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে এর আগে ক্লিনটন দম্পতি কমিটির সামনে হাজির হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রতি অবমাননা সম্পর্কিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা কমেছে।
এদিকে রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যে অংশ নেওয়া হিলারির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন কনজারভেটিভ ইউটিউবার বেনি জনসন। তিনি ক্যাপশনে লিখেন, ‘হিলারিকে বিমর্ষ দেখাচ্ছে’। সঙ্গে যোগ করেন, এই ছবি তাঁকে রিপাবলিকান দলের কংগ্রেস সদস্য লরেন বোয়েবার্ট পাঠিয়েছেন।
এ নিয়ে তুমুল শোরগোল পড়ে যায়। কেননা, সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল রুদ্ধদ্বার। তবে এটা রেকর্ড করে পরে প্রকাশ করার অনুমতি ছিল। ছবি ফাঁস হওয়ার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হিলারি। সাক্ষ্যগ্রহণ থমকে যায়। পরে তা আবারও শুরু হওয়ার খবর জানা গেছে।
লরেন বোয়েবার্ট বিবিসির কাছে পাঠানো খুদে বার্তায় বেনি জনসনকে ছবি পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ছবিটি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে তোলা।
বৃহস্পতিবারের সাক্ষ্যে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের হিলারি কী বলেছেন, সেটার বিস্তারিত এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
তবে বিবিসির প্রতিবেদনের খবর, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের এ কমিটিকে ‘দলীয় রাজনৈতিক থিয়েটার’ বলে মন্তব্য করেছেন হিলারি। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, কমিটির উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সাক্ষ্য দিতে অনুরোধ করা।
এর আগে এক সাক্ষাতকারে হিলারি বলেছিলেন, তিনি জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করা বা কথা বলার কথা মনে করতে পারছেন না। তাঁর স্বামী বিল ক্লিনটন এপস্টিনকে চিনতেন। তবে তিনি কোনো অপরাধ বা এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো ধারণা থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
হিলারি আরও বলেন, ‘আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আমরা এ-সংক্রান্ত নথিগুলো পুরোপুরি প্রকাশ করার জন্য বারবার অনুরোধ করেছি। আমরা মনে করি, স্বচ্ছতাই অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পন্থা।’