জর্জিয়ায় মারজোরি গ্রিনের আসনে জিতলেন ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী ক্লেই ফুলার

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রোমে ‘কুসা স্টিল করপোরেশন’ পরিদর্শনের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন ক্লেই ফুলারছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার রান-অফ নির্বাচনে জয়ী হতে চলেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ক্লেই ফুলার। তিনি সাবেক কংগ্রেস সদস্য ট্রাম্পের একসময়ের ঘনিষ্ঠ মারজোরি টেলর গ্রিনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের একসময়ের কট্টর মিত্র গ্রিন এ বছরের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছিলেন।

বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে জয় পান ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট ক্লেই ফুলার। তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শন হ্যারিসকে পরাজিত করেছেন। এই জয়ের ফলে কট্টর রক্ষণশীল এই নির্বাচনী এলাকাটি রিপাবলিকানদের দখলেই থাকল।

এর ফলে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের ২১৭-২১৪ আসনের অতি সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকল।

জর্জিয়া এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফুলার আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত মারজোরি গ্রিনের মেয়াদের বাকি সময়টুকু দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফুলার বলেন, তাঁদের জয়ের পেছনে ট্রাম্পের সমর্থন ছিল ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’। তিনিই (ট্রাম্প) ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান।’

এর আগে ১০ মার্চ এক বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রিপাবলিকান শিবিরে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেদিন ভোট ভাগ হয়ে গিয়েছিল এবং হ্যারিস ফুলারের চেয়ে সামান্য ভালো ফল করেছিলেন। কিন্তু কোনো প্রার্থীই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় গত মঙ্গলবার আবার রান-অফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী জানুয়ারির পরও এই আসনটি ধরে রাখতে হলে ফুলারকে এখনই আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার শুরু করতে হবে। সেখানে তিনি আবারও শন হ্যারিসের মুখোমুখি হতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হ্যারিসও নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

হ্যারিস বলেন, ‘আমরা যে ফল চেয়েছিলাম, তা হয়নি। এরপরও পরিষ্কার বার্তাটি হলো, এখানকার মানুষ এমন নেতৃত্ব চায়, যারা জনগণকে অগ্রাধিকার দেবে। লড়াই চলবে। দেখা হবে নভেম্বরে!’

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের ‘ফেলো’ হিসেবে কাজ করা ফুলার প্রেসিডেন্টের নীতির কট্টর সমর্থক। বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ এবং ব্যাপক হারে অভিবাসী বিতাড়নের বিষয়ে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে একমত।

মূলত ট্রাম্পের সমর্থনেই রিপাবলিকানদের প্রাথমিক বাছাই ভোটে অন্যদের পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে আসেন ফুলার। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজের সমর্থকদের ওপর ট্রাম্পের প্রভাব কতটুকু, তা বুঝতে ওয়াশিংটন এই নির্বাচনের দিকে কড়া নজর রাখছিল।

ইমোরি ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আনড্রা গিলেস্পি বলেন, ‘সাধারণত ট্রাম্পের ফুলারকে সমর্থন দেওয়ার পেছনে একটি কৌশল কাজ করেছে। খুব বেশি কট্টরপন্থী কাউকে প্রার্থী করলে মধ্যপন্থী ভোটাররা বিমুখ হতে পারতেন। ওই ভোটারদের ধরে রাখতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল।’

রান-অফ নির্বাচন কী

রান-অফ নির্বাচন হলো দ্বিতীয় দফার একটি ভোটব্যবস্থা। যখন প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট (সাধারণত ৫০ শতাংশের বেশি) পান না, তখন এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়।

এর মূল নিয়ম হলো প্রথম দফার ভোটে যাঁরা সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন (সাধারণত শীর্ষ দুজন), কেবল তাঁরাই রান-অফ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে নিশ্চিত হয়, বিজয়ী প্রার্থী শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন। ১০ মার্চের নির্বাচনে কেউ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় শীর্ষ দুই প্রার্থী ফুলার ও হ্যারিসের মধ্যে গত মঙ্গলবার আবার যে ভোট হয়েছে, সেটিই হলো ‘রান-অফ’ নির্বাচন।