সংগ্রহে তাঁর দুই হাজার জোড়া মোজা
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের নর্থ অগাস্টার বাসিন্দা ড্যারিল পার্কারের শখ মোজা জমানো। জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকী—উপহার হিসেবে তাঁর প্রথম পছন্দ মোজা। পার্কারের পরিবারের সদস্যরা তাঁর এই পছন্দের কথাটি খুব ভালো করেই জানেন। তাই উপহার হিসেবে পার্কারের জন্য মোজা আনতে তাঁরা ভোলেন না।
নিজের এই শখ থেকেই পার্কার এখন বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চলেছেন। তাঁর সংগ্রহে বর্তমানে দুই হাজারের বেশি জোড়া মোজা রয়েছে এবং এই সংগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। পেশায় অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও প্যারামেডিক পার্কার এখন অবসরজীবন কাটাচ্ছেন।
মোজার এই বিশাল সংগ্রহের শুরুটা হয়েছিল সাধারণ একটি বাবা দিবসের উপহার থেকে। এরপর জন্মদিন, পদোন্নতি কিংবা বিবাহবার্ষিকীর মতো নানা উপলক্ষে স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে মোজাই পেতে থাকেন তিনি।
এভাবে মোজার পাহাড় জমে উঠলে একদিন তাঁর স্ত্রী ও নাতি-নাতনিরা পার্কারকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য চেষ্টা করার পরামর্শ দেন। স্বজনদের কথায় উৎসাহিত হয়ে পার্কার তাতে সায় দেন। এরপর তাঁর রেকর্ড গড়ার অভিযান শুরু করেন।
বর্তমানে মোজার সর্ববৃহৎ সংগ্রহের গিনেস রেকর্ডটির মালিক ফিলাডেলফিয়ার অবসরপ্রাপ্ত সংবাদ পাঠক জিম ডনোভানের দখলে। ২০২৫ সালে তাঁর সংগ্রহে থাকা অনন্য নকশার ১ হাজার ৫৩১ জোড়া মোজা গণনা করে তাঁকে এই খেতাব দেওয়া হয়।
ড্যারিল পার্কার এরই মধ্যে ২ হাজার জোড়ার বেশি মোজা সংগ্রহ করে ফেলেছেন। তাই তিনি যে জিম ডনোভানের রেকর্ড ভেঙে দিতে যাচ্ছেন, তা একরকম নিশ্চিত। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক গণনা ও স্বীকৃতি পাওয়া বাকি।
আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন ও গিনেস কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে পার্কার এ বছরের শেষ পর্যন্ত মোজা সংগ্রহ করবেন। এরপর তাঁর লক্ষ্য নিজের এই বিপুল পরিমাণ মোজা তিনি কোনো স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে দান করে দেবেন।
সমাজসেবাকে নিজের রক্তে মিশে থাকা তাগিদ হিসেবে দেখা এই সাবেক অগ্নিনির্বাপণকর্মী বলেন, নতুন সংগৃহীত প্রতিটি মোজাই দিন শেষে পৌঁছে দেওয়া হবে আশ্রয়হীন মানুষের কাছে।
পার্কার বলেন, শুধু রেকর্ড গড়াই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য নয়; বরং এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সমাজে আনন্দ ও খুশির জোগান দিতে চান।