যুদ্ধে মিত্রদের পাশে পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রতিবাদে গতকাল দেশটির রাজধানী সিউলে বিক্ষোভছবি: রয়টার্স

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে নানাভাবে মিত্রদেশগুলোকে এ যুদ্ধে যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে গতকাল সোমবার যুদ্ধের ১৭তম দিনেও কোনো দেশ এ যুদ্ধে যোগ দেয়নি।

সে ক্ষোভ থেকেই গত রোববার ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ মিত্রদেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সহায়তা না দিলে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যদিও গতকাল তিনি আশা প্রকাশ করেন, হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে পাশে পাবে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোয় পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। আশপাশের অন্তত ১৪টি দেশে যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরান কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। জ্বালানি নিয়ে এ বৈশ্বিক পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একধরনের চাপ তৈরি করেছে।

তারপরও যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গতকালও ইরানের তেহরান, তাবরিজ ও শিরাজে ব্যাপক হামলা হয়েছে। ইরান ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরাকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে—ট্রাম্পের এ দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করে ইরান বলেছে, যত দিন প্রয়োজন, তত দিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত।

মিত্রদের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট ট্রাম্প

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর জ্বালানি তেলের দাম ৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সেই চাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে চাইছে। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ ও ট্যাংক চলাচল নিশ্চিত করতে মিত্রদের সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান।

গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রত্যাশা, চীনসহ মিত্রদেশ ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সহায়তা করবে। কোনো সাড়া না পেয়ে রোববার ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ মিত্রদেশগুলো সহায়তা না দিলে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ফাইল ছবি: এএফপি

ট্রাম্প রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘যারা এই প্রণালি (হরমুজ) থেকে উপকৃত হচ্ছে, তাদের উচিত, সেখানে যাতে খারাপ কিছু না ঘটে, সে জন্য সহায়তা করা।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ন্যাটো নামের একটি জোট আছে। এই জোটের প্রতি আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি। ইউক্রেন ইস্যুতে তাদের (ন্যাটো) সাহায্য করার কোনো প্রয়োজন ছিল না আমাদের। ইউক্রেন আমাদের থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে...কিন্তু আমরা তাদের সহায়তা করেছি। এখন দেখা যাক, তারা আমাদের সহায়তা করে কি না।’

একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি (সহায়তার) কোনো সাড়া না পাওয়া যায় অথবা নেতিবাচক সাড়া আসে, তাহলে আমি মনে করি, এটি ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুব খারাপ হবে।’

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের হরমুজ প্রণালি ‘সুরক্ষিত’ করার কাজে জড়িত হওয়ার ‘সম্ভাবনা কম’।
রজার শানাহান, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষক

এদিকে কেনেডি সেন্টারের বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘কিছু দেশ রয়েছে, যাদের আমরা বহু বছর ধরে সাহায্য করেছি। আমরা তাদের ভয়ংকর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছি। কিন্তু তারা (সহায়তায়) অতটা আগ্রহী ছিল না। আর উৎসাহের মাত্রা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি এ বিষয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু তাঁর প্রতিক্রিয়া জুতসই নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি (মাখোঁ) সাহায্য করবেন।’ ট্রাম্পের আশা, যুক্তরাজ্যও হরমুজ মিশনে যুক্ত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত না হওয়ার ব্যাপারে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান জোরালো বলে মনে করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস মোরান। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের কোনো বৈধতা নেই—এ বিষয়ে ইউরোপজুড়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে।

মোরান আল–জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী (রাশিয়া) বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে।

ন্যাটোর ‘করার কিছু নেই’

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ওই সংবাদ সম্মেলনের আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গতকাল ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। স্টারমার বলেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য তার মিত্রদের সঙ্গে একটি ‘কার্যকর’ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তবে নিজেদের পরিকল্পনায় ন্যাটোর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
ফাইল ছবি: রয়টার্স

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলি, এটি কোনো ন্যাটো মিশন হবে না এবং এটি কখনো সেভাবে ভাবাও হয়নি।’ ইরানে হামলা চালানোর জন্য শুরু দিকে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি যুক্তরাজ্য। ইরানে বিমান হামলায় সহায়তা করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন স্টারমার। এ কারণে তাঁকে তিরস্কার করে ট্রাম্প বলেছিলেন, দুই দেশের (যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য) সম্পর্ক এখন আর আগের মতো নেই।

স্টারমার গতকাল জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য নিজেদের ও মিত্রদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে বৃহত্তর কোনো যুদ্ধে জড়াব না।

ইউরোপ যে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশামতো হরমুজ মিশনে যুক্ত হচ্ছে না, তা স্পষ্ট করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। গতকাল ব্রাসেলসে জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যে একটি নৌ মিশন শক্তিশালী করার ‘সুস্পষ্ট ইচ্ছা’ প্রকাশ করেছেন। তবে আপাতত হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত এর পরিধি বাড়ানোর কোনো আগ্রহ তাঁদের নেই।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ‘ন্যাটোর যুদ্ধ’ নয় উল্লেখ করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তিনি গতকাল বলেন, জার্মানি এতে অংশ নেবে না। এ যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জার্মানি বা ইউরোপের সঙ্গে পরামর্শ করেনি।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নোঙর করে আছে এলপিজি গ্যাসবাহী একটি ট্যাংকার
ছবি: রয়টার্স

৩২ দেশের জোট ন্যাটোর সদস্য ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড ও গ্রিস হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না বলে জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র অস্ট্রেলিয়া ও জাপান বলেছে, তারাও হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না। তবে ন্যাটোর আরেক কৌশলগত অংশীদার দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, তারা ট্রাম্পের আহ্বান বিবেচনা করে দেখছে। যদিও দেশটিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির বিষয়ে আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গতকাল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্রদের জন্য তা বন্ধ।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নিরাপত্তাবিশ্লেষক রজার শানাহান আল-জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা হরমুজ প্রণালি ‘সুরক্ষিত’ করার কাজে জড়িত হওয়ার ‘সম্ভাবনা কম’। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মিত্র প্রথম থেকেই এ যুদ্ধের বিরোধিতা করছে। এ যুদ্ধে সহায়তা করার বিষয়ে তাদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম।

পাল্টাপাল্টি হামলা

গতকাল ইরানের রাজধানী তেহরান, হামাদান, শিরাজ, তাবরিজ ও ইসফাহানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। তেহরানের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বিদ্যুৎ বিভাগের একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ইসরায়েলের হামলায় তেহরানে রেড ক্রিসেন্টের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ জানিয়েছে, তেহরানের আকাশ থেকে কিছু ‘ক্ষতিকর নিক্ষিপ্ত বস্তু’ ধ্বংস করেছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। গতকাল ইরানের ছেলেদের একটি স্কুলেও হামলার কথা জানা গেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে দেশটির মেয়েদের একটি স্কুলে হামলায় প্রায় ১৭০ জন নিহত হয়েছিল।

তেহরানের শাহরান নামক জ্বালানি তেলের ডিপোতে হামলার পর কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া উঠছে। ৮ মার্চ ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানে হামলা শুরুর পর গতকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত মানুষের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে। হামলা হয়েছে বহু বেসামরিক স্থাপনায়।

গতকাল হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সামর্থ্য ৯০ শতাংশ কমেছে। তিনি বলেন, ‘সংঘাতের শুরু থেকে আমরা ইরানজুড়ে ৭ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছি। আর এগুলোর বেশির ভাগই ছিল বাণিজ্যিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু। আমরা তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৯৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।’ ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনি বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে আবারও সংশয় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

গতকাল ইরানও ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র অথবা তার ধ্বংসাবশেষ জেরুজালেমের নিকটবর্তী বেত শেমেশ এলাকায় আঘাত হেনেছে। ইরানের আইআরজিসি জানায়, তারা গতকাল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ‘সাউদার্ন কমান্ড’ ও দেশটির অস্ত্র নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ‘রাফায়েলের’ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন। রিশন এলাকা, ইসরায়েল
ছবি: রয়টার্স

গতকাল ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে হামলায় ৩ হাজার ৩৬৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল বিকেল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ১৪২ জন। এর আগে জানানো হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

গতকাল ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার বলেন, চলমান যুদ্ধে আগামী কয়েক দিনে উত্তেজনা বাড়তে পারে। সে জন্য তাঁর দেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ খুব সম্ভবত আরও কয়েক সপ্তাহ চলবে।

গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বিমানবন্দরের কাছে একটি ‘ড্রোন–সংক্রান্ত ঘটনায়’ তেলের ট্যাংকারে আগুন লেগে যাওয়ার ফলে উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। পরে সেখানে ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। একই দিনে আমিরাতের পূর্ব উপকূলের ফুজাইরাহ তেলশিল্প এলাকায় ড্রোনের আঘাতে আগুন ধরে যায়। আবুধাবির উপকণ্ঠে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হন।

গতকাল বাহরাইন ও কাতারেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে ২ মার্চ থেকে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গতকাল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘সীমিত স্থল অভিযান’ শুরু করেছে। লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলায় ৮৮৬ জন নিহত হয়েছেন।