ট্রাম্প প্রশাসন এপস্টিন–সংক্রান্ত নথি ‘আড়াল করার’ চেষ্টা করছে: বিবিসির কাছে হিলারির অভিযোগ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তাঁর স্ত্রী সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী প্রয়াত জেফরি এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন হিলারি ক্লিনটন। সাবেক এই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন এপস্টিন–সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করেনি। প্রশাসন নথিপত্র ‘আড়াল করেছে’।

জার্মানির বার্লিনে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিলারি বলেন, ‘ফাইলগুলো বের করে আনুন। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কাজটা ঝুলিয়ে রাখছে।’

অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জোর দিয়ে বলেছে, এসব নথি প্রকাশ করে ভুক্তভোগীদের জন্য তারা যা করেছে, তেমনটা ডেমোক্র্যাটরা কখনো করেনি

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে কংগ্রেস কমিটির সামনে হাজির হতে হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘যাঁকে সাক্ষ্য দিতে বলা হবে, তাঁরই সাক্ষ্য দেওয়া উচিত।’

এপস্টিনের নথিতে কারও নাম থাকার অর্থ অপরাধের প্রমাণ নয়। যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সাবেক সদস্য অ্যান্ড্রু সব সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গত ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিন–সম্পর্কিত লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে। কংগ্রেস একটি আইন পাস করার পর বিচার বিভাগকে এপস্টিন–সংক্রান্ত তদন্তের তথ্য প্রকাশ করতে বলা হয়।

আমি শুধু চাই, এটি ন্যায়সংগত হোক। আমি চাই, সবার সঙ্গে একই আচরণ করা হোক। আমাদের লুকোনোর কিছু নেই। আমরা বারবার এই নথিগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছি। আমাদের মনে হয়, প্রকাশই সর্বোত্তম পরিশোধক।
হিলারি ক্লিনটন, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) বলেছে, ‘দ্য এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী সব নথি তারা প্রকাশ করেছে। তবে আইনপ্রণেতারা বলেছেন, প্রকাশ করা তথ্য যথেষ্ট নয়।

২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্ক কারাগার থেকে এপস্টিনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জানানো হয়, তিনি আত্মহত্যা করছেন। যৌন অপরাধ এবং যৌন কর্মের জন্য নারী ও মেয়েশিশু পাচারের অভিযোগে হওয়া মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিচার শুরুর আগেই তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন

সেবার গ্রেপ্তার হওয়ার এক দশক আগে শিশু যৌন অপরাধের একটি মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে দণ্ড ভোগ করেছিলেন।

এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের নাম ও ছবি এসেছে। এ–সংক্রান্ত বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ক্লিনটন দম্পতির কংগ্রেস কমিটির সামনে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। বিল ক্লিনটন ২৭ ফেব্রুয়ারি কমিটির সামনে উপস্থিত হবেন। এর এক দিন আগে হাজির হবেন হিলারি ক্লিনটন।

ক্লিনটন দম্পতি কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে অবজ্ঞার অভিযোগ আনা নিয়ে যে ভোটের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে ১৯৮৩ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড কংগ্রেস কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। এরপর বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য হবে প্রথম আরেকজন সাবেক প্রেসিডেন্টের কংগ্রেস কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার ঘটনা।

আরও পড়ুন

এপস্টিনের যৌন অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীদের কেউ ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেনি। ক্লিনটন দম্পতিও এপস্টিনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন।

ক্লিনটন দম্পতি চান,  গোপন কক্ষে নয় বরং জনসমক্ষে তাঁদের শুনানি অনুষ্ঠিত হোক।

হিলারি ক্লিনটন বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা হাজির থাকব। আমাদের মনে হয়, এটি জনসম্মক্ষে করাই ভালো হবে।’

রিপাবলিকান কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমার ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে ‘বিলম্ব’ করার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসকে অবজ্ঞা করা নিয়ে যখন ভোট আয়োজন আসন্ন, তাঁরা তখন বাধ্য হয়ে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন।’

জবাবে হিলারি বলেন, ‘আমি শুধু চাই, এটি ন্যায়সংগত হোক। আমি চাই, সবার সঙ্গে একই আচরণ করা হোক। আমাদের লুকোনোর কিছু নেই। আমরা বারবার এসব নথি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছি। আমাদের মনে হয়, প্রকাশই সর্বোত্তম পরিশোধক।’

আরও পড়ুন

ডেমোক্রেটিক দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হিলারি দাবি করেন, ট্রাম্পের থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্য তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

কেন এমন বলছেন তাঁর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হিলারি বলেন, ‘সবার দৃষ্টি ঘোরাতে তাঁদের এই পরিকল্পনা। ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা ক্লিনটনদের, এমনকি হিলারি ক্লিনটনকেও টেনে আনব”।’

হিলারি কখনো ওই ব্যক্তির (এপস্টিন) সঙ্গে দেখা করেননি বলে দাবি করেন।

এপস্টিনের সঙ্গে দেখা না হলেও তাঁর কথিত বান্ধবী ও সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে  ‘কয়েকবার দেখা হওয়ার কথা’ স্বীকার করেছেন হিলারি।

এপস্টিনের ফাইলে অসংখ্যবার ট্রাম্পের নাম এসেছে। ট্রাম্পও বারবার কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন